যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেছেন, সবার জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে ধাপে ধাপে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, ই-হেলথ কার্ড চাল এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা উন্নয়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার মিরপুরে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়ামে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের উদ্যোগে গণমুখী সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘খেলাধুলা বাড়ায় প্রাণ, হৃদয় থাকে শক্তিমান’ শীর্ষক সেমিনারে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার তিন শতাধিক মানুষ অংশ নেন। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক খন্দকার আব্দুল আউয়াল রিজভীর সভাপতিত্বে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য স্বাস্থ্যকর এবং একটি নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তোলার অঙ্গীকারকে সামনে রেখে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬’ উদ্যাপিত হচ্ছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘স্বাস্থ্যসেবায় বিজ্ঞান, সুরক্ষিত সকল প্রাণ’।
মো. আমিনুল হক বলেন, মাদক ও তামাকের মতো নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণের ফলে তরুণ সমাজ ভয়াবহ আসক্তের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। এসব তরুণদের সুস্থ জীবনধারায় আনতে এবং স্কুলের শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করতে সরকার নানাবিধ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
হৃদরোগীদের কাছে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন আস্থার জায়গায় পরিণত হয়েছে; এজন্য এই প্রতিষ্ঠানকে বিভাগীয় পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি অভিমত দেন ।
স্বাগত বক্তব্য দেন ফাউন্ডেশনের মহাসচিব অধ্যাপক ফজিলা-তুন-নেসা মলিক বলেন, দেশে অসংক্রামক রোগ, বিশেষ করে হৃদরোগ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে চিকিৎসা সুবিধার পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ফাউন্ডেশনের এপিডেমিওলজি অ্যান্ড রিসার্চ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী। তিনি বলেন, মানুষের স্বাস্থ্য, প্রাণিকুল ও পরিবেশ—এই তিনটি একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। ‘ওয়ান হেলথ’ ধারণা অনুযায়ী, টেকসই স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে এই তিনটি ক্ষেত্রকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে দেশের ৩০০টিরও বেশি উপজেলায় অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে তৃণমূল পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা জোরদার করার কার্যক্রম চলছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, বর্তমানে তরুণদের মধ্যে ই-সিগারেট ব্যবহার ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
সভাপতি অধ্যাপক খন্দকার আব্দুল আউয়াল (রিজভী) বলেন, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, সুষম খাদ্যগ্রহণ, তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার না করা ও খেলাধুলা হৃদরোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অনুষ্ঠান শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) অধ্যাপক মো. ইউনুছুর রহমান।







