দেশের জ্বালানি খাতে তৈরি হওয়া চাপ সামাল দিতে সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানো, সরকারি কর্মকর্তাদের সপ্তাহে একাধিক দিন ঘরে বসে কাজের সুযোগ দেওয়া এবং অফিস সময়সূচিতে পরিবর্তন আনার মতো একগুচ্ছ সাশ্রয়ী পদক্ষেপ বিবেচনা করছে সরকার। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আংশিকভাবে অনলাইন ক্লাস চালুর বিষয়টিও সক্রিয় আলোচনায় রয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, সব সরকারি সংস্থাকে জ্বালানি সাশ্রয় নিয়ে নিজস্ব প্রস্তাব তৈরি করতে বলা হয়েছে। এসব প্রস্তাব আগামী মন্ত্রিসভা বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। আলোচনায় থাকা অন্তত আটটি পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে সাপ্তাহিক ছুটিতে বাড়তি একদিন যোগ করা অথবা কর্মকর্তাদের সপ্তাহে দুদিন ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ সুবিধা দেওয়া।
এছাড়া অফিসের কার্যক্রম দিনের শুরুতে এগিয়ে আনা কিংবা মোট কর্মঘণ্টা কমিয়ে আনার প্রস্তাবও রয়েছে। বিদ্যুৎ খরচ কমাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সপ্তাহের অর্ধেক ক্লাস অনলাইনে নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় আছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। মন্ত্রিসভায় আলোচনা শেষে ঠিক করা হবে কোন পদক্ষেপগুলো কার্যকর করা হবে।
জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমানোতেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। অপ্রয়োজনীয় সরকারি ঋণ গ্রহণ পরিহার এবং কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের প্রস্তাবও আলোচনার টেবিলে রয়েছে।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য, আমদানিতে বাড়তি ব্যয় এবং ডলার সংকটের প্রেক্ষাপটে এই কৃচ্ছ্রসাধন কর্মসূচি নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। ইরান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় দেশে জ্বালানি সংকটের চাপ আরও বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।








