মানিকগঞ্জের শিবালয়ে সরকারি খাল ভরাট ও দখলের অভিযোগ উঠেছে। শিবালয় উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়নে শাকরাইল মৌজা এলাকায় সরকারি খাল প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ভরাট করছেন। খাল ভরাট করে বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ করছে স্থানীয় ব্যক্তিরা। সেখানে ইতোমধ্যে গড়ে তোলা হয়েছে দোকান-পাট। এলাকার মানুষ এক দশক আগেও নৌকায় মালামাল নিয়ে এই খাল দিয়ে হাট-বাজারে যেতেন। পার্শ্ববর্তী এলাকার মাঝিরা নৌকা ও ট্রলার নিয়ে ঘিওর, বরংগাইল, উথলি হাটে যেতেন। এক সময়ের স্রোতধারা খালটি এখন মৃতপ্রায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রায় ১৫ থেকে ২০ ফুট পর্যন্ত চওড়া খালটির অধিকাংশ জায়গা ব্যক্তি উদ্যোগে ভরাট করা হয়ে গেছে। অবৈধভাবে খালের অংশ দখল করে মুদি দোকানঘর নির্মাণ করেছে স্থানীয় মোবারক হোসেন নামে এক ব্যক্তি। স্থানীয় স্কুল মাস্টার শের আলী খাল ভরাট করে শাক-সবজি চাষাবাদ করছে। অন্য ব্যক্তিরা খাল ভরাট করে অধিকাংশ খাল নিজেদের দখলে রেখেছে। কেউ গরুর গোয়াল ঘর তুলেছে, কেউ মুদির দোকান তুলছে। যারা ভরাট করতে পারেনি তারা খাল নিজেদের অংশ বলে দাবি করছে। এখন তারা সরকারি খালের সব জায়গা দখলে নিয়ে অন্যপক্ষের ব্যক্তি মালিকানা পুকুর পাড় দিয়ে রাস্তা তৈরির চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা গত ৫ নভেম্বর মানিকগঞ্জ জজ কোর্টে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামীগণ হলেন, মো. সাঈদ মিয়া, রাহিমা বেগম, মিতা হক, মো. আব্দুল মান্নান মৌল্লিক ও মোবারক হোসেন।
এ প্রেক্ষিতে এলাকাবাসীর অভিযোগ সরকারি খাল কোনোভাবে ভরাট করে ব্যক্তি ভোগ দখলের সুযোগ দেয়া যাবে না। তারা এসব সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। খাল ভরাটে শুধু জমি দখল নয় পরিবেশ বিপর্যয়ও ঘটে। বৃষ্টি মৌসুমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে রাস্তাঘাট ভেঙ্গে যায়। বর্ষা মৌসুমে সাধারণ মানুষসহ স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের চলাচলে কষ্ট হয়। কর্দমাক্ত রাস্তার কারণে কৃষকের মালামাল পরিবহন অসম্ভব হয়ে যায়। বয়স্ক রোগী ও প্রসূতি নারীদের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে সমস্যা হয়। বেদখল ও ভরাট হওয়া খাল উদ্ধার করে সমস্যা সমাধানের দাবি এলাকাবাসীর।







