মহামারী করোনার কারণে তিন বছর বিরতির পর আগামী ১০, ১১ ও ১২ মার্চ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত হতে যাচ্ছে উদীচীর একাদশ সত্যেন সেন গণসংগীত উৎসব ও জাতীয় গণসংগীত প্রতিযোগিতা।
গণসংগীতের প্রচার, প্রসার এবং একে একটি স্বতন্ত্র সংগীতের ধারা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে প্রতিবছর উদীচীর প্রতিষ্ঠাতা সত্যেন সেন-এর জন্মদিনকে উপলক্ষ্য করে এ উৎসব ও প্রতিযোগিতা আয়োজিত হয়।
‘প্রলয় বাজাও গানে, সাহস জাগাও প্রাণে’- এই শ্লোগান নিয়ে উদীচী আয়োজিত একাদশ সত্যেন সেন গণসংগীত উৎসব ও জাতীয় গণসংগীত প্রতিযোগিতা ২০২৩-এর বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরতে আয়োজন করা হয় এক সংবাদ সম্মেলনের। বুধবার (৮ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১টায় উদীচী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজত এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি অধ্যাপক বদিউর রহমান, উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি এবং একাদশ সত্যেন সেন গণসংগীত উৎসব ও জাতীয় গণসংগীত প্রতিযোগিতা প্রস্তুতি পরিষদের আহবায়ক হাবিবুল আলম, উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি শিবাণী ভট্টচার্য্য, প্রবীর সরদার, জামসেদ আনোয়ার তপন, উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক সঙ্গীতা ইমাম।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে। এতে তিনি বলেন, “গণসংগীতের প্রচার, প্রসার এবং একে একটি স্বতন্ত্র সংগীতের ধারা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে ২০০৯ সাল থেকে প্রতিবছর উদীচীর প্রতিষ্ঠাতা শিল্পী-সংগ্রামী সত্যেন সেনের জন্মদিন ২৮ মার্চকে কেন্দ্র করে সত্যেন সেন গণসংগীত উৎসব ও জাতীয় গণসংগীত প্রতিযোগিতা আয়োজন করে আসছে উদীচী। উদীচীর আয়োজনে সকল জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে গণসংগীত প্রতিযোগিতার বিজয়ীরা জাতীয় গণসংগীত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন। তিনটি একক এবং একটি দলীয়- মোট চারটি বিভাগে বিভক্ত হয়ে প্রতিযোগীরা এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে থাকেন।”
অমিত রঞ্জন দে আরো জানান, “করোনা মহামারীর কারণে দীর্ঘ তিন বছর বিরতির পর এবছর একাদশ বারের মতো তিন দিনব্যাপী আয়োজন করতে যাচ্ছে সত্যেন সেন গণসংগীত উৎসব ও জাতীয় গণসংগীত প্রতিযোগিতা। উদ্বোধন হবে আগামী ১০ মার্চ শুক্রবার, বিকাল ৪টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। এবারের উৎসব উদ্বোধন করবেন উদীচীর অন্যতম উপদেষ্টা, বিশিষ্ট লোকশিল্পী সাইদুর রহমান বয়াতি। প্রতিবছরের মতো এবারও ভারত থেকে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে প্রথিতযশা গণসংগীত শিল্পী কংকন ভট্টাচার্য্য, মন্দিরা ভট্টাচার্য্য এবং রঞ্জিনী ভট্টাচার্য এই আয়োজনকে ঋদ্ধ করবেন। দেশের বিশিষ্ট গণসংগীত শিল্পী ও সংগঠনসসমূহ অনুষ্ঠানে নিজ নিজ পরিবেশনা উপস্থাপন করবেন। ১১ মার্চ শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিল্পীদের গণসংগীতসহ দেশের স্বনামধন্য গণসংগীতের সংগঠন ও শিল্পীদের সংগীতে মুখর হবে। ১২ মার্চ, ছায়ানট মিলনায়তনে ভারত থেকে আগত অতিথি শিল্পী কংকন ভট্টাচার্য্য, মন্দিরা ভট্টাচার্য্য ও রঞ্জিনী ভট্টাচার্য্যরে পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হবে। ”
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এরই মধ্যে ৫৮টি জেলায় গণসংগীত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে যারা বিজয়ী হয়েছেন তারা ৯টি বিভাগে বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছেন। বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় বিজয়ীরাই আগামী ১০ মার্চ ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ‘ক’, ‘খ’, ‘গ’ ও ‘ঘ’ (দলীয়)- এই চারটি বিভাগে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একক প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে অনুর্ধ্ব-১২ বছর বয়সীরা ‘ক’ বিভাগে, অনূর্ধ্ব-১৮ বছর বয়সীরা ‘খ’ বিভাগে এবং ১৮ বছরের বেশি বয়সী সকল প্রতিযোগী ‘গ’ বিভাগের অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। দলীয় প্রতিযোগিতা (‘ঘ’ বিভাগ)-এর ক্ষেত্রে কমপক্ষে পাঁচজন শিল্পীর অংশগ্রহণ বাঞ্ছনীয়। বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় ‘ক’, ‘খ’ ও ‘গ’ বিভাগে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অধিকারীরা এবং ‘ঘ’ বিভাগে প্রথম স্থান অধিকারী দল জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবে।
উদীচীর গণসংগীত প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে প্রগতিশীল গণচেতনাসম্পন্ন জাগরণমূলক গান, শ্রমিক-কৃষক-মেহনতি মানুষের দুঃখ-দুর্দশা এবং অধিকার সম্পন্ন সচেতনতামূলক গান, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাসমৃদ্ধ গান, স্বাধীনতা সংগ্রামের গান, সমাজের অন্যায়-অত্যাচার-নিপীড়ন অবসানের দিকনির্দেশনামূলক গান, মৌলবাদ-সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী গান, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির গান, যুদ্ধ-বিরোধী, স্বৈরাচার বিরোধী গান, সাম্রাজ্যবাদ ও পুঁজিবাদবিরোধী গান, বিশ্ব শান্তির পক্ষের গান, শোষণের বিরুদ্ধে গান, মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে গানকে গণসঙ্গীত হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। সম্প্রতি বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া সাম্প্রদায়িক হামলা, আদিবাসীদের উপর হামলার বিষয় এবং সুন্দরবনসহ প্রাণ প্রকৃতি রক্ষা সম্পর্কিত গানগুলোকেও উৎসাহিত করা হচ্ছে।








