ঈদের পর রাজধানীর বাজারে হঠাৎ করেই বেড়েছে সোনালি মুরগির দাম। কেজিপ্রতি প্রায় ১০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে এই মুরগির দাম। তবে অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা নেই; চাল, ডাল, পেঁয়াজ-রসুন ও শাকসবজির দাম মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে।
রাজধানীর উত্তরার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ঈদের পর সরবরাহ কমে যাওয়ায় সোনালি মুরগির দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। বর্তমানে প্রতি কেজি সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৪৩০ থেকে ৪৪০ টাকায়। যদিও কিছু বাজারে এটি ৩৬০ টাকায়ও বিক্রি হতে দেখা গেছে।
অন্যদিকে ব্রয়লার মুরগির দামে তেমন পরিবর্তন নেই। প্রতি কেজি ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকায়। এছাড়া লেয়ার মুরগি ৩২০ টাকা, পাকিস্তানি মুরগি ৩৯০ টাকা এবং দেশি মুরগি আকারভেদে ৫৫০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতারা জানান, বাজারে মুরগির সরবরাহ কিছুটা কম থাকলেও চাহিদা অনুযায়ী দাম স্থিতিশীল রয়েছে। বিশেষ করে ব্রয়লার মুরগির সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে, ফলে এর দাম কমেছে। মাংসের বাজারে গরুর মাংস মানভেদে ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস প্রতি কেজি ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এসব পণ্যের দামেও তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি।
মাছের বাজারে সরবরাহ কিছুটা কম থাকলেও দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদের পর মাছের আমদানি কম থাকায় সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তবে চাহিদা সীমিত থাকায় দাম বাড়েনি।
বর্তমানে রুই মাছ কেজিপ্রতি ৩৫০ থেকে ৪২০ টাকা, কাতলা ৩২০ থেকে ৩৮০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২৮০ টাকা, পাঙ্গাস ১৮০ থেকে ২৫০ টাকা এবং শিং-মাগুর ৫৫০ থেকে ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কই মাছ ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং বোয়াল-চিতলসহ বড় মাছ ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অন্যান্য মাছের মধ্যে ছোট চিংড়ি ৩০০-৩৫০ টাকা, কাঁচকি ৪৫০-৫০০ টাকা, মলা ৩০০-৩৫০ টাকা, পাবদা ৩০০-৬০০ টাকা এবং গলদা চিংড়ি ৬৫০-৭৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
এদিকে সরকারি সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহে রাজধানীর বাজারে চাল, আটা, ডাল, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, মুরগি ও বিভিন্ন সবজিসহ অন্তত ১০টি পণ্যের দাম কমেছে। টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, মোটা চালের দাম প্রায় ৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ কমে বর্তমানে ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্যাকেটজাত আটার দাম কেজিতে ৫ টাকা কমে এখন ৫০ থেকে ৬০ টাকায় নেমেছে। তবে সরু ও মাঝারি মানের চালের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
পেঁয়াজের দামও নিম্নমুখী। দেশি পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ কম। এছাড়া আমদানিকৃত রসুনের দাম ৯ শতাংশ এবং আদার দাম প্রায় ৩ শতাংশ কমেছে। সবজির বাজারে সবচেয়ে বেশি দাম কমেছে কাঁচামরিচের। গত সপ্তাহে ১৬০ টাকা ছাড়ানো কাঁচামরিচ এখন ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি লেবু ও বেগুনের দামও কমেছে।
ডালের বাজারে দেখা গেছে মিশ্র প্রবণতা। ছোট দানার মশুর ডালের দাম কমলেও বড় দানার মশুর ডালের দাম কিছুটা বেড়েছে। বর্তমানে বড় দানার মশুর ডাল ৯০ থেকে ১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে ভোজ্যতেলের বাজারে গত এক মাসে কিছুটা দাম বাড়লেও গত সপ্তাহে নতুন করে আর কোনো বৃদ্ধি হয়নি।








