বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রূপার দামে হঠাৎ বড় ধস নেমেছে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে এই দুই মূল্যবান ধাতুর বাজারমূল্য থেকে প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলার উধাও হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে বাজার বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান কোবেইসি লেটার।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি থাকা সত্ত্বেও এই পতন স্বাভাবিক নিয়মের বিপরীত। সাধারণত এমন পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকেন, কিন্তু এবার ঘটেছে ঠিক উল্টো।
এর প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের বন্ড বাজার। মার্কিন ১০ বছরের ট্রেজারি বন্ডের সুদহার দ্রুত বেড়ে প্রায় ৪ দশমিক ৪ শতাংশে পৌঁছেছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের মতো শূন্য-লাভের সম্পদ থেকে সরে গিয়ে সুদ-দেওয়া বন্ডে ঝুঁকছেন।
এছাড়া ডলারের শক্তিশালী অবস্থানও ধাতব বাজারে চাপ তৈরি করেছে। ডলার শক্তিশালী হলে স্বর্ণের দাম সাধারণত কমে যায়, কারণ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি তুলনামূলক ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে।
বিশ্লেষকদের মতে, অতিরিক্ত লিভারেজ বা ঋণনির্ভর বিনিয়োগও এই ধসকে ত্বরান্বিত করেছে। দাম কমতে শুরু করলে একের পর এক স্টপ-লস ও মার্জিন কল ট্রিগার হয়ে বাজারে ব্যাপক বিক্রির চাপ তৈরি হয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি কোনো স্বাভাবিক বাজার প্রবণতা নয়, বরং একটি বড় ধরনের ‘লিকুইডিটি সংকট’ বা জোরপূর্বক বিক্রির পরিস্থিতি।
তাদের মতে, যদি উচ্চ সুদহার, শক্তিশালী ডলার ও বাজারের অস্থিরতা অব্যাহত থাকে, তাহলে একই ধরনের চাপ ভবিষ্যতে অন্যান্য সম্পদ—যেমন শেয়ারবাজার বা প্রযুক্তি খাতেও দেখা যেতে পারে।







