সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার নীতি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে ফিফার এথিক্স কমিটিতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে মানবাধিকারভিত্তিক সংস্থা ফেয়ারস্কোয়ার। সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেয়া প্রথম ফিফা শান্তি পুরস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছে তারা।
ফেয়ারস্কোয়ার আট পৃষ্ঠার একটি অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে। সোমবার ফিফার এথিক্স কমিটিতে তদন্ত বিভাগ ও যোগাযোগ বিভাগে অভিযোগটি জমা দেয়।
ফেয়ারস্কোয়ারের মতে, বিশ্বকাপ আয়োজনের কারণে ফিফার যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক রাখা প্রয়োজন।
কিন্তু অবশ্যই সেক্ষেত্রে ইনফান্তিনোকে রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থাকতে হবে, তবে তিনি সেটি মানেননি। এ আচরণ ফিফার ভাবমূর্তি ও ফুটবলের বৈশ্বিক মূল্যবোধকে নষ্ট করেছে।
ফিফার নীতিমালার ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদে স্পষ্ট বলা আছে, সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা রাজনৈতিক বিষয়ে নিরপেক্ষ থাকবেন। ফেয়ারস্কোয়ারের মতে, ইনফান্তিনো এ নিয়ম চারবার ভেঙেছেন।
অভিযোগপত্রটির প্রথমে বলা আছে, ট্রাম্পের পক্ষে নোবেল শান্তি পুরস্কারে প্রচারণা চালান তিনি। চলতি বছরের অক্টোবর মাসে ইনফান্তিনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছিলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প অবশ্যই নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য, তার কার্যকরী পদক্ষেপের কারণে।’ ফেয়ারস্কোয়ার মতে, এ মন্তব্যটি ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থানকে সমর্থন করে এবং এটি আন্তর্জাতিক বিতর্কিত পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপ করে।
দ্বিতীয়টি হল, মিয়ামির আমেরিকা বিজনেস ফোরামে ট্রাম্পের প্রশংসা করেছেন ফিফা সভাপতি। নভেম্বর ৫ তারিখে এক অনুষ্ঠানে ইনফান্তিনো ট্রাম্পকে খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু বলে উল্লেখ করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার কাজের প্রকাশ্য সমর্থন জানান। বলেছিলেন, ‘যেকাউকে নির্বাচিত করা হয়, তার নীতিকেই সমর্থন করে। তিনি যা করেছেন, তাই বাস্তবায়ন করছেন। তাই আমাদের তার কাজকে সমর্থন করা উচিত।’ ফেয়ারস্কোয়ারের মতে এটি ট্রাম্পের রাজনৈতিক এজেন্ডার সরাসরি সমর্থন।
তৃতীয়টি হল, প্রি-ইনঅগারেশন র্যালিতে উপস্থিতির জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ। এবছরের ২০ জানুয়ারি ইনফান্তিনো একটি ভিডিওতে বলেছিলেন, ‘একসাথে আমরা শুধু আমেরিকাকেই নয়, পুরো বিশ্বকেই মহান করব।’ ফেয়ারস্কোয়ার মতে, এটি ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ রাজনৈতিক স্লোগান অনুকরণ, যা নিরপেক্ষতা ভঙ্গের শামিল।
চতুর্থটি হল, ফিফা শান্তি পুরস্কারটি দেয়ার আগে ফিফা কাউন্সিল বা সহ-সভাপতির কোন মতামত বা সিদ্ধান্তে নেয়া হয়নি। ফিফার নীতিমালায় বলা আছে, ফিফার মিশন, মূল্যবোধ বা নতুন কোন উদ্যোগ নেয়ার সিদ্ধান্ত কাউন্সিলের একত্রে নিতে হবে।
এই পুরস্কারের কোন মানদণ্ড, জুরি বা মনোনয়ন প্রক্রিয়া নেই বলে মানবাধিকার সংস্থা আগেই প্রশ্ন তুলেছিল। তারা ফিফাকে চিঠি পাঠালেও কোন উত্তর পায়নি।
ফিফার এথিক্স কমিটি সংগঠনের নৈতিকতা সম্পর্কিত যেকোনো লঙ্ঘনের তদন্ত ও বিচারকার্য প্রথমে পরিচালনা করে। তদন্ত ও বিচার, দুই ভাগে বিভক্ত, এ কমিটির নেতৃত্বে আছেন রুয়ান্ডার মার্টিন নগোগা, যিনি জাতিসংঘে রুয়ান্ডার স্থায়ী প্রতিনিধি। নিয়মভঙ্গের ক্ষেত্রে সতর্কবার্তা, জরিমানা, নির্দেশিত প্রশিক্ষণ বা ফুটবল সম্পর্কিত কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধকরণ, এধরনের শাস্তি দেয়ার ক্ষমতা রয়েছে কমিটির হাতে। তবে এখনও সংস্থাটির সভাপতির বিষয় কোন সিদ্ধান্ত আসেনি।








