এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
ভারতের বিখ্যাত নির্মাতা এস. এস. রাজামৌলি। তার জন্মদিনে জেন-জেডের চোখে ২০০৯ সালের ফ্যান্টাসি ড্রামা ‘মাগাধীরা’র একটি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। যে সিনেমায় অভিনয় করেছেন রাম চরণ ও কাজল আগারওয়াল।
২০০৯ সালে মুক্তির সময় ছবিটি ছিল তেলুগু সিনেমার জন্য এক বড় মোড় পরিবর্তনের মুহূর্ত! প্রথম ১০০ কোটির ক্লাব- স্পর্শ করা ছবি এটি। তবে ২০২৫ সালে এসে এই ছবিটিকে যখন একজন জেন-জেড দেখেন, তখন তার প্রতিক্রিয়া কেমন হতে পারে- সেটাই এই লেখাতে উঠে এসেছে।
‘মাগাধীরা’ নিয়ে প্রতিক্রিয়ায় একজন জেন-জেড বলছেন, ‘মাগাধীরা’ দেখতে গিয়ে মনে হলো যেন এক অবাস্তব ও অতিনাটকীয় ফ্যান্টাসির জগতে ঢুকে পড়েছি। ছবির শুরুর দৃশ্যেই মন ভেঙে যায়। পাহাড় থেকে কাজল আগারওয়ালের চরিত্র প্রিন্সেস মিত্রাবিন্দার পড়ে যাওয়া দৃশ্যটি এতটাই কৃত্রিম যে মনে হয় সময়টা যেন ৯০-এর দশক! ভিএফএক্স ও সিজিআই-এর মান এত নিচু যে দেখার আগ্রহ হারিয়ে যায়।
গল্পটি মন্দ নয়— আধুনিক যুগের বাইক রেসার হর্ষা ও ইন্দুর অতীতজন্মের প্রেম এবং প্রতিশোধের গল্প। কিন্তু ছবির দৈর্ঘ্য ও নাটকীয়তা এতটাই টেনে আনা যে ২ ঘণ্টা ৪৫ মিনিটের এই ফ্যান্টাসি ড্রামা একসময় ক্লান্তিকর মনে হয়।
বিরোধী চরিত্র রণাদেব (দেব গিল) মাতাল অবস্থায় নায়িকার সঙ্গে যেভাবে কথা বলে, তা আজকের দর্শকদের কাছে অগ্রহণযোগ্য। সংলাপে ছিল এমন অশালীন কথা, “তোমার দেহ এই ফলের চেয়েও মিষ্টি… আমি তা চিবিয়ে রস বের করতে চাই।” এমন সংলাপগুলো আজকের প্রজন্মের কাছে কেবলই বিরক্তিকর ও অবমাননাকর।
আজকের দিনে লাপাতা লেডিজ (২০২৩), বুলবুল (২০২০), গাঙ্গুবাই কাঠিয়াওয়াড়ি (২০২২)-এর মতো ছবিতে নায়িকারা গল্পের কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু ‘মাগাধীরা’-তে কাজল আগারওয়ালকে দেখা গেছে শুধু সাজসজ্জার উপকরণ হিসেবে, যা বর্তমান প্রজন্মের দৃষ্টিতে একেবারেই পুরোনো ধাঁচের উপস্থাপন।
রাজামৌলি দর্শকদের মুগ্ধ করতে চাইলেও, ছবিটি অতিরিক্ত ভিজ্যুয়াল আড়ম্বর ও নাটকীয়তায় ভরা। ঠিক যেমনটা দেখা গেছে তার পরের কাজগুলো— আরআরআর (২০২২) ও বাহুবলী (২০১৫)-তেও।
একজন জেন-জেড দর্শক হিসেবে বলতে হয়— ‘মাগাধীরা’ এমন এক সিনেমা, যা হয়তো আমাদের বাবার প্রজন্মকে মুগ্ধ করেছিল, কিন্তু আমাদের কাছে এটি কেবলই পুরোনো, অতিনাটকীয় ও প্রযুক্তিগতভাবে দুর্বল ও হাস্যকর এক ফ্যান্টাসি ছবি। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস








