এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় পূর্ণমাত্রায় দুর্ভিক্ষ চলছে বলে এই প্রথম নিশ্চিত করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি বলেছে, গাজার মানুষ দুর্ভিক্ষে আক্রান্ত। গাজা উপত্যকার পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ ‘ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও মৃত্যুর’ মুখোমুখি হচ্ছে। কারণ হিসেবে সংস্থাটি বলছে, গাজায় নিয়মিত খাদ্য সহায়তা পৌঁছাতে বাধা দেওয়ার কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার ২২ আগস্ট ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি ও কাতার ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ক নজরদারির দায়িত্ব পালন করা জাতিসংঘের সংস্থা দ্য ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেইজ ক্লাসিফিকেশন বা আইপিসি বলছে, গাজায় খাদ্য নিরাপত্তা সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় পৌঁছেছে। গাজা শহর এবং এর আশেপাশের এলাকা দুর্ভিক্ষের কবলে বলে নিশ্চিত করেছে সংস্থাটি।
তবে, হামাসের মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে এমন প্রতিবেদন করা হয়েছে দাবি করে ইসরায়েল বলছে, আইপিসি এর প্রতিবেদন ‘মিথ্যা ও পক্ষপাতদুষ্ট’।
আইপিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ দেইর আল-বালাহ এবং খান ইউনিস এলাকাও ‘বিপর্যয়কর পরিস্থিতির’ শিকার হবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, গাজার এ দুর্ভিক্ষ ‘সম্পূর্ণরূপে মানুষের তৈরি এবং এটি নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে।
জাতিসংঘের সহায়তা প্রধান টম ফ্লেচার বলেছেন, ‘এই দুর্ভিক্ষ প্রতিরোধযোগ্য ছিল। কিন্তু ইসরায়েলের বাধার কারণে খাবার পৌঁছানো যাচ্ছে না।’ আর জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ফলকার টুর্ক বলেছেন, ‘যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ক্ষুধা ব্যবহার করা যুদ্ধাপরাধের শামিল।
জাতিসংঘের প্রধান আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, এই সংকট “মানবতার ব্যর্থতা”। তিনি গাজায় সীমাহীন মানবিক প্রবেশাধিকারের আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, তার মন্ত্রিসভা গাজা শহরে নতুন আক্রমণের পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। আর আইডিএফ জানিয়েছে, তাদের সম্প্রসারিত আক্রমণের আগে ডাক্তার এবং সাহায্যকর্মীদের দ্রুত সরিয়ে নিতে।
এছাড়াও ইসরায়েল বিবিসিসহ আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলোকে গাজায় অবাধে সংবাদ বা রিপোর্ট করার অনুমতি দেয় না বলেও প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।







