মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটে বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়েছে বলে সতর্ক করেছেন আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) প্রধান ফাতিহ বিরোল। তিনি বলেছেন, এই সংকট অব্যাহত থাকলে এর প্রভাব থেকে কোনো দেশই রক্ষা পাবে না।
অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীতে ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে বক্তব্য দিতে গিয়ে বিরোল বর্তমান পরিস্থিতিকে ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকট এবং ২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বলেন, “বর্তমান সংকটটি দুইটি তেল সংকট এবং একটি গ্যাস সংকট একত্রে ঘটার মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছে।”
বিরোল জানান, বর্তমানে বিশ্ব প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ হারিয়েছে, যা অতীতের বড় দুটি তেল সংকটের সম্মিলিত প্রভাবের চেয়েও বেশি।
তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে অন্তত ৯টি দেশে প্রায় ৪০টি জ্বালানি স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হুমকি অব্যাহত রয়েছে। ট্রাম্প ইরানকে হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন, যেখানে দিয়ে বিশ্বে প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ হয়।
হরমুজ প্রণালীতে জটিলতার কারণে জ্বালানি সরবরাহ কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। এর প্রভাব ইতোমধ্যে বিশ্ববাজারে পড়তে শুরু করেছে—সোমবার তেলের দাম বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।








