মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গন থেকে শুরু করে ফুটবল মাঠ এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা- সবশেষে জাতীয় সংসদের স্পিকারের আসনে বসেছেন মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)। সংসদ সদস্যদের কণ্ঠভোটে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) খন্দকার মোশাররফ হোসেন–এর সভাপতিত্বে সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্পিকার পদে তার নাম প্রস্তাব করা হয়। বরগুনা–২ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন এবং খুলনা–৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম তা সমর্থন করেন। পরে কণ্ঠভোটে প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্পিকার নির্বাচিত হন।
এর আগে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ভোলা–৩ আসন থেকে বিজয়ী হয়ে সপ্তমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এর আগে তিনি ছয়বার সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অসীম সাহসিকতার জন্য তিনি ‘বীর বিক্রম’ খেতাব লাভ করেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি সম্মুখযুদ্ধে অংশ নিয়ে সাহসিকতার পরিচয় দেন।
রাজনীতিতে আসার আগে তিনি দেশের পরিচিত ফুটবলারদের একজন ছিলেন। ফুটবল মাঠে তার তারকা খ্যাতি ছিল এবং তিনি ফুটবল দলের স্ট্রাইকার খেলোয়াড় ও অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ১৯৬৪ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত তিনি পূর্ব পাকিস্তানের দ্রুততম মানব হিসেবে স্বীকৃতি পান। পাকিস্তান সেনাবাহিনীতেও সৈনিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
পরবর্তীতে সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে ধীরে ধীরে জাতীয় পর্যায়ের নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পান হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় তিনি পানিসম্পদ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মন্ত্রী হিসেবে দেশের পানি ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামো উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
ভোলা অঞ্চলে তার শক্তিশালী রাজনৈতিক ভিত্তি রয়েছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও ব্যক্তিগত প্রভাবের কারণে সেখানে তার উল্লেখযোগ্য ভোটব্যাংক তৈরি হয়েছে, যা তাকে বারবার নির্বাচনে বিজয়ী হতে সহায়তা করেছে।


