ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়ার হুঁশ ফেরাতে চীনের ওপর ভরসা রাখছে ফ্রান্স। বেইজিং সফরে তেমনই বার্তা দিলেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তবে পশ্চিমাদের আপাতত শান্তি আলোচনা ও রাজনৈতিক সমাধানেই চোখ রাখতে বলেছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং। চীন ও ফ্রান্স মিলে বিশ্বে শান্তি আনতে পারে এই আশাবাদ ব্যক্ত করে আলোচনা করেন তারা।
চার বছর পর চীন সফর করলেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল ম্যাক্রোঁ। যখন পশ্চিমা বিশ্বের সাথে চীনের সম্পর্ক খারাপের দিকে যাচ্ছে ঠিক এমন সময় ফরাসি প্রেসিডেন্টের এই সফর চীনের জন্য আশার সঞ্চার ঘটিয়েছে। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ফলে পশ্চিমাদের সাথে এই বৈরিতা তৈরি হয়েছে চীনের।
চীন ইউক্রেনে যুদ্ধের জন্য রাশিয়ার প্রতি নিন্দা জানায়নি। বিষয়টি নিয়ে পশ্চিমাদের অসন্তোষ রয়েছে। আবার অন্যদিকে, যুদ্ধের অবসান ঘটাতে মস্কোকে শান্তি-প্রস্তাব দিয়ে রেখেছে বেইজিং। সবমিলিয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্টের সফরে ব্যবসা-বাণিজ্যের বিষয়গুলো ছাপিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতিই ঘুরে ফিরে আলোচনায় আসছে।
বেইজিংয়ে নেমেই বর্ণাঢ্য সামরিক প্যারেড পরিদর্শন করেন প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল ম্যাক্রোঁ। এরপর দুই নেতার মধ্যে রুদ্ধাদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে সংবাদ সম্মেলনে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং বলেন, চীন শান্তি আলোচনা ও রাজনৈতিক সমাধানের পক্ষে। ইউক্রেন ইস্যুতে বিশ্বশক্তিগুলোকে ধৈর্য্য ধরার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে ইম্যানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, যতোদিন ইউক্রেনে রাশিয়ার দখল থাকবে ততোদিন পর্যন্ত ইউরোপে শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে না।
চীনে ফরাসি প্রেসিডেন্টের সফরসঙ্গী হিসেবে আছেন ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রধান ইউরসুলা ভন ডার লিয়েন। পৃথক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বেইজিংকে সতর্ক করে জানান, চীন যদি রাশিয়াকে অস্ত্র সরবরাহ করে তবে তা হবে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। এতে চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হবে বলেও হুঁশিয়ার করেন তিনি।








