ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুস সালাম বলেছেন, “মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো দল নেই, তারা এ দেশের।” ২৬শে মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে নগর ভবনে অনুষ্ঠিত ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা-২০২৬’-তে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, এমপি।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ঢাকায় প্রায় দেড় হাজার বীর মুক্তিযোদ্ধা অংশ নেন। জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে এক মিনিট নিরবতা পালন এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পরবর্তীতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানার্থে স্মারক, ফুলেল শুভেচ্ছা ও উত্তরীয় প্রদান করা হয়।
বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে একাত্তরের রণাঙ্গনের স্মৃতিচারণ করেন ক্যাপ্টেন নুরুল হুদা (সিটুসি, ৯নং সেক্টর), বীর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক নঈম জাহাঙ্গীর ও সদস্য-সচিব সাদেক আহমেদ খান। এছাড়া জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের আহ্বায়ক ইশতিয়াক আজীজ উলফাত এবং বিএনপির মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক লেঃ কঃ (অবঃ) জয়নাল আবেদীনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, “আমাদের ঠিকানা মুক্তিযুদ্ধ এবং আমাদের ঠিকানা ‘৭১’। স্বাধীনতা একবারই এসেছে, এর আগেও আসেনি, আবার পরেও আসবে না। আমাদের রাজনৈতিক অর্জনগুলোকে আমরা শ্রদ্ধা করি, তবে স্বাধীনতাকে সমানতালে মেলানো বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।”
ডিএসসিসি প্রশাসক মোঃ আবদুস সালাম আরও জানান, “ভবিষ্যতে মেয়র নির্বাচিত হলে অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের স্বচ্ছল করার দায়িত্ব ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নেবে।” তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা, আবাসন ও উন্নত পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের স্কুল শিক্ষার্থীরা দেশাত্মবোধক গান ও নৃত্য পরিবেশন করেন। এছাড়া বেবি নাজনীন, ইথুন বাবু, রিজিয়া পারভীন, মৌসুমি চৌধুরী ও শিবা শানু অনুষ্ঠানে অংশ নেন। অনুষ্ঠান সকাল ১০টায় শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৭টায় শেষ হয়।








