কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিকাশমান জগতে ডিগ্রি ছাড়াই প্রবেশ এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে সহজ বলে মনে করেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত এআই বিশেষজ্ঞ ও সাবেক মেটা নির্বাহী দেবী পারিখ।
দ্য ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস জানিয়েছে, বিজনেস ইনসাইডারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এআই-এ উচ্চতর ডিগ্রি বা পিএইচডি থাকা বাধ্যতামূলক নয়; বরং দক্ষতা, বাস্তব অভিজ্ঞতা ও ধারাবাহিক চর্চাই এখানে সাফল্যের পথ তৈরি করে।
দেবী পারিখ একসময় মেটার জেনারেটিভ এআই বিভাগের সিনিয়র ডিরেক্টর ছিলেন এবং বর্তমানে স্টার্টআপ ‘ইউতোরি’র সহ-প্রধান নির্বাহী। তিনি জানান, যারা এআই খাতে ক্যারিয়ার গড়তে চান, তাদের জন্য সুযোগ এখন আগের তুলনায় বহুগুণ বিস্তৃত।
ডিগ্রি ছাড়াই এআই খাতে ক্যারিয়ার গড়তে তরুণদের জন্য ৪টি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন দেবী পারিখ।
১. ‘পিএইচডি লাগবে’ এই ভুল ধারণা ভাঙুন
পারিখের মতে, এআই খাতে প্রভাব ফেলতে পিএইচডি বাধ্যতামূলক নয়। ওপেন সোর্স প্রজেক্ট, স্টার্টআপ, বড় টেক ল্যাব বা অনলাইন কমিউনিটিতে অংশগ্রহণ যেকোনো বাস্তব অভিজ্ঞতাই ক্যারিয়ার গড়ে দিতে পারে। তিনি বলেন, সময় দেওয়া ও পরিশ্রমের অভ্যাস আপনাকে আলাদা করে তুলবে এবং অনুশীলনেই তৈরি হবে দক্ষতা।
২. হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা ও মডেল ট্রেনিং দক্ষতাই আসল
২০২৪ সালে দেবী পারিখ তার স্বামী ও এক বন্ধুকে নিয়ে শুরু করেন স্টার্টআপ ‘ইউতোরি’। তিনি জানান ইউতোরিতে নিয়োগে ডিগ্রির চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় বাস্তব কাজের দক্ষতা, মডেল ট্রেনিং অভিজ্ঞতা ও টেকনিক্যাল ইন্টারভিউতে পারফরম্যান্সকে।
৩. প্রযুক্তি দ্রুত বদলায় নিজেকে বদলাতে প্রস্তুত থাকুন
পারিখ জানান, অনেক গবেষক একসময়ে ডিপ লার্নিং গ্রহণে দেরি করেছিলেন পুরোনো পদ্ধতিতে আবদ্ধ থাকার কারণে।
তিনি বলেন, নিজের পরিচয় বা পরিচিত ক্ষেত্র আঁকড়ে থাকলে সুযোগ হাতছাড়া হতে পারে।
৪. যেটা শুরু করেন, সেটা শেষ পর্যন্ত নিয়ে যান
মহামারির সময় পারিখ এআই গবেষকদের নিয়ে একটি ইউটিউব সিরিজ চালু করেন, যেখানে তিনি তাদের ব্যক্তিগত দিক তুলে ধরেন। এই প্রকল্প তাকে ব্যাপক পরিচিতি দেয়। তার মতে, কোনো কাজ শেষ না করলে তার প্রভাবও তৈরি হয় না। কোনো কিছু করতে চাইলে শুরু করে দিন, অতিরিক্ত ভাবনায় পিছিয়ে থাকবেন না।

পারিখ মনে করেন, ক্যারিয়ার সিদ্ধান্তে নিরাপদ পথ নয়, বরং নিজের আগ্রহকে অনুসরণ করা উচিত। মেটার মতো প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদ ছেড়ে স্টার্টআপ শুরু করার সিদ্ধান্তটিও এসেছে তার কৌতূহল ও অনুসন্ধিৎসা থেকে।
এআই খাতে প্রবেশ করতে চাওয়া তরুণদের উদ্দেশে তার পরামর্শ, সুযোগের অপেক্ষা করবেন না। শিখতে থাকুন, হাতে-কলমে কাজ করুন এবং যেটাতে আগ্রহ পান, সেটাই অনুসরণ করুন।
৪১ বছর বয়সী পারিখের এআই-এ আগ্রহ শুরু কলেজজীবনে, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়ার সময় প্যাটার্ন রিকগনিশন শিখতে গিয়ে। পরে তিনি কার্নেগি মেলন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার ভিশনে পিএইচডি সম্পন্ন করেন ২০০৯ সালে। তখন জেনারেটিভ এআই ব্যাপক পরিচিতও হয়নি।
তার ক্যারিয়ার জুড়ে রয়েছে একাডেমিয়া, গবেষণা ল্যাব ও বড় প্রযুক্তি কোম্পানিতে কাজের অভিজ্ঞতা। ২০১৬ সালে তিনি ফেসবুক এআই রিসার্চে যোগ দেন। কয়েক বছর ধরে মেনলো পার্কের এআই ল্যাবে কাজের পাশাপাশি জর্জিয়া টেকে কম্পিউটার ভিশন পড়িয়েছেনও। ২০২১ সালে পুরোপুরি মেটায় যোগ দেন এবং জেনারেটিভ এআই-এ নেতৃত্ব দেন।








