ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধ দ্বিতীয় মাসে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে আরব দেশগুলোর মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ১২০ বিলিয়ন থেকে ১৯৪ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত কমে যেতে পারে।
ইউএন-এর সহকারী মহাসচিব ও আরব অঞ্চলের পরিচালক আবদুল্লাহ আল-দারদারি বলেন, “মাত্র এক মাসেই আমাদের অঞ্চলে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ বাড়বে—যা সাধারণত বহু বছরের অর্থনৈতিক পতনে ঘটে।”
অর্থনীতিতে আকস্মিক ধাক্কা
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধ ইতোমধ্যেই অঞ্চলটিতে “হঠাৎ ও তীব্র অর্থনৈতিক ধাক্কা” সৃষ্টি করেছে বলে জানান আল-দারদারি। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তেল রপ্তানি ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে, যা জ্বালানি বাণিজ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।

বেকারত্ব বাড়বে
৩১ মার্চ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,
- বেকারত্বের হার ৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে
- প্রায় ৩৬ লাখ মানুষ চাকরি হারাতে পারে
- যা ২০২৫ সালে সৃষ্ট মোট চাকরির সংখ্যার চেয়েও বেশি
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (GCC) দেশগুলো এবং লেভান্ট অঞ্চল, যেখানে জিডিপি ৫.২ শতাংশের বেশি কমতে পারে।
দারিদ্র্য আরও বাড়বে
ইরাক, সিরিয়া, জর্ডান, লেবানন ও ফিলিস্তিন নিয়ে গঠিত লেভান্ট অঞ্চলে দারিদ্র্য ৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
এতে অতিরিক্ত ২.৮৫ থেকে ৩.৩ মিলিয়ন মানুষ দারিদ্র্যে পড়বে, যা পুরো আরব অঞ্চলের দারিদ্র্য বৃদ্ধির ৭৫ শতাংশেরও বেশি। বিশেষ করে দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা সিরিয়ায় পরিস্থিতি আরও সংকটজনক হয়ে উঠতে পারে।

হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব
হরমুজ প্রণালি বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ, যা পারস্য উপসাগরকে ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করে।
- বিশ্বের প্রায় ২০% তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG)
- এবং ২৫% সামুদ্রিক তেল পরিবহন
এই প্রণালির মাধ্যমে হয়।
কাতার, কুয়েত ও বাহরাইনের মতো দেশগুলো প্রায় সম্পূর্ণভাবে এই পথের ওপর নির্ভরশীল।
বিকল্প পথ খোঁজার চেষ্টা
সংকট মোকাবিলায় কিছু দেশ বিকল্প ব্যবস্থা নিচ্ছে।
- সৌদি আরব লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে পাইপলাইনের ব্যবহার বাড়াচ্ছে
- ইরাক ও সিরিয়ার মধ্যে স্থলপথে তেল পরিবহনের আলোচনা চলছে
নীতিগত পরিবর্তনের আহ্বান
আল-দারদারি বলেন, এই সংকট অঞ্চলটির দেশগুলোর জন্য একটি সতর্কবার্তা— অর্থনৈতিক, সামাজিক ও খাতভিত্তিক নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার সময় এসেছে। তিনি বলেন, “এই সংকট আমাদের দেখিয়ে দিয়েছে, প্রভাব কতটা গভীর হতে পারে।”








