নিখোঁজের দু’দিন পর গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর সরকারি কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সিয়ামের মরদেহ বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের একটি পুকুরের ভেতর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গতকাল সোমবার ৯ মার্চ রাত ১১টার দিকে বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের একটি পুকুরের কচুরিপানার নিচ থেকে তার গলিত মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত সিয়াম মুকসুদপুর সরকারি কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং বাঁশবাড়িয়া গ্রামের লিখন মিয়ার ছেলে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মাদকের টাকা জোগাড় করতে চার বন্ধু মিলে সিয়ামকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে।
মুকসুদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মামুন জানান, গত শনিবার ৭ মার্চ অভিযুক্তরা সিয়ামকে তার বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর তারা পরিকল্পিতভাবে সিয়ামকে হত্যা করে। হত্যার পর সিয়ামের ব্যবহৃত দামি আইফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয় তারা। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে মরদেহটি বাঁশবাড়িয়া হাসপাতালের পেছনে কাঁশবনের সংলগ্ন একটি পুকুরে কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখে হত্যাকারীরা। ছিনিয়ে নেওয়া আইফোনটি পরে বোয়ালিয়া গ্রামের এক ব্যক্তির কাছে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয় অভিযুক্তরা।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সিয়াম গত ৭ মার্চ থেকে নিখোঁজ ছিল। নানা জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও সিয়ামের সন্ধান না পেয়ে বিষয়টি থানা পুলিশকে জানানো হয়। আমাদের দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে পুলিশ। এরপর পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে সিয়ামের বন্ধুদের জিজ্ঞাসাবাদ করে।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত পারভেজ মুন্সী ও দিদার মুন্সী হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার মধ্যরাতে পুলিশ ওই পুকুরে তল্লাশি চালায়। পরে রাত ১১টার পর ওই পুকুরের কচুরিপানার নিচ থেকে সিয়ামের দুর্গন্ধযুক্ত মরদেহ উদ্ধার করে।
মুকসুদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোবারক হোসেন জানিয়েছেন, সিয়ামের মরদেহ উদ্ধার করে আজ মঙ্গলবার ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তার ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।








