ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলনে যোগ দিতে মরিশাস যাওয়ার পথে মঙ্গলবার দিল্লি গেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা বিকেলে দিল্লি পৌঁছালে তাদের ‘উষ্ণ’ অভ্যর্থনা জানান ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ-মিয়ানমার বিভাগের প্রধান বি শ্যাম এবং দিল্লিতে বাংলাদেশের হাই কমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ভারতের সঙ্গে ‘থমকে’ যাওয়া সম্পর্ক ‘মেরামত’ করাই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ সফরের উদ্দেশ্য। তবে দ্বিপক্ষীয় সফরের প্রায় সব উপাদান থাকলেও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দিল্লি যাওয়াকে ‘শুভেচ্ছা সফর’ হিসাবেই দেখাতে চাইছে সরকার।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর এটিই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রথম আনুষ্ঠানিক ভারত সফর। নতুন সরকারের প্রথম মাসে বিদেশে অন্যান্য সফরের মত দিল্লি ও পোর্ট লুইসেও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) এক্স অ্যাকাউন্টে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দিল্লি পৌঁছানোর দুটি ছবি প্রকাশ করে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, আজ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের দিল্লি আগমনে উষ্ণ অভ্যর্থনা। ভারত ও বাংলাদেশের রয়েছে অভিন্ন উষ্ণ ও ঐতিহাসিক বন্ধন, যার ভিত্তি জনগণের সঙ্গে জনগণের শক্তিশালী সম্পর্কের মধ্যে। এই সফর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে আরও জোরদার করবে।
নানা সমালোচনা থাকলেও বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ‘অন্য উচ্চতায়’ পৌঁছেছিল। তবে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নিলে দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক ‘টানাপোড়েন’ শুরু হয়। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে বিভিন্ন কারণে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ইতিহাসের সবচেয়ে ‘চ্যালেঞ্জের’ মুখে পড়ে। ফলে নতুন বাস্তবতায় নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ‘নবায়ন করার’ লক্ষ্য নিয়েই পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিল্লি গেছেন বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ভাষ্য।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশ করা সূচি অনুযায়ী, বুধবার দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এবং পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস বিষয়ক মন্ত্রী হারদীপ সিংহ পুরির সঙ্গে বৈঠক করবেন খলিলুর রহমান। এছাড়া ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গেও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাতের কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসএম মাহবুবুল আলম।
দিল্লিতে বিভিন্ন বৈঠকের আলোচ্যসূচির বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, গঙ্গা ও তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি, বাণিজ্য, সীমান্ত হত্যার মত ধারাবাহিক আলোচনার বিষয়গুলোর পাশাপাশি ভবিষ্যৎমুখী বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা হবে। ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তি সই হয়। সেই হিসাবে, আগামী ১২ ডিসেম্বর চুক্তিটির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে।







