এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আগামীকাল মঙ্গলবার প্রথমবারের মত অনুষ্ঠিত হচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচন (জকসু) ও হল শিক্ষার্থী সংসদ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দুই দশক পরে এক বছরের জন্য গঠিত হতে যাচ্ছে ২৩ সদস্যের কেন্দ্রীয় সংসদ।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা গেছে শেষ সময়ের নির্বাচনি প্রস্তুতি। আগামীকাল সকাল ৯টা থেকে তিনটা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি ভবনের ৩৯টি কেন্দ্রে ১৭৮টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
গত ৩০ ডিসেম্বর জকসুর ভোট গ্রহণের কথা থাকলেও ওইদিন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যু খবর এলে নির্বাচন স্থগিত করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
২০০৫ সালে কলেজ থেকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০৫’ এ ছাত্র সংসদ সম্পর্কিত কোনো ধারা না থাকায় প্রতিষ্ঠার পর একবারও জকসু নির্বাচন হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বহুবার নির্বাচন দাবি করলেও ‘আইনি জটিলতার’ কারণে তা আয়োজন করা যায়নি। শিক্ষার্থীদের লাগাতার আন্দোলনের মুখে গত ২৮ অক্টোবর জকসু নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়।
গত ৫ ডিসেম্বর জকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। শুরুতে ভোটগ্রহণের জন্য ২২ ডিসেম্বর দিন ঠিক করা হলেও ভূমিকম্পে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় ৮ দিন পিছিয়ে তা ৩০ ডিসেম্বর করা হয়। তবে সেটাও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যু খবর এলে নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। অবশেষে আগামী ৬ জানুয়ারি ভোট গ্রহণের জন্য নতুন তারিখ ধার্য করা হয়।
জকসু নির্বাচনে মোট ভোটার ১৬ হাজার ৬৪৫ জন। যেখানে নারী ভোটার ৮ হাজার ৪৭৯ জন এবং পুরুষ ভোটার ৮ হাজার ১৭০ জন। তাদের প্রত্যক্ষ ভোটে কেন্দ্রীয় সংসদে ২১ জন নির্বাচিত হবেন। কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচনে মোট প্রার্থী ১৫৭ জন৷
জকসু নির্বাচন কমিশনার থেকে জানা যায়, কেন্দ্রীয় সংসদের জন্য ৩৮টি এবং হল সংসদের জন্য একটি ভোটকেন্দ্র ঠিক করা হয়েছে। নির্বাচনে প্রতি ১০০ ভোটারের জন্য একটি করে বুথ থাকবে।
ভোটগ্রহণ শেষে মেশিনের মাধ্যমে ভোট গণনা করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তন থেকে ফল ঘোষণা করা হবে, যা একইসাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক, দ্বিতীয় ফটক ও শহিদ সাজিদ ভবনের নিচে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে৷
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কেবল মেয়েদের জন্য একটি হল রয়েছে। ‘নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী’ নামে ওই হলের আবাসিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১২৪২ জন। হল সংসদ নির্বাচনে ১৩টি পদের বিপরীতে মোট প্রার্থীর সংখ্যা ৩৩।
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভোট দিতে আসা শিক্ষার্থীরা কেবলমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেট দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবেন। ভোট প্রদান শেষে শিক্ষার্থীদের ২ ও ৩ নম্বর গেট দিয়ে ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে হবে।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই শুধু ২ নম্বর গেট দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করবেন। কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অবশ্যই আইডি কার্ড প্রদর্শন করে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে হবে এবং জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত ক্যাম্পাসের বাইরে যাতায়াত করতে পারবেন না।
সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক বলেন, জকসু উপলক্ষে ক্যাম্পাসের ভিতরে ও বাইরে তিন স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভিতরে দুই শতাধিক বিএনসিসি ও রোভাররা থাকবে৷ এছাড়াও বাইরে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, সেনাবাহিনীসহ সহস্রাধিক পুলিশ থাকবে৷
জকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মোস্তফা হাসান বলেন, আমাদের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। পূর্বের দায়িত্বপ্রাপ্তরা আগামীকাল দায়িত্ব পালন করবে৷ নির্বাচন উপলক্ষে ৫ ও ৬ জানুয়ারি সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ছুটি না নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। ভোটের দিন শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের ক্যাম্পাসে ব্যক্তিগত গাড়ি প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা থাকবে।
বিশ্ববিদ্যালয়টি ‘জগন্নাথ কলেজ’ থাকাকালে মোট ১৪ বার ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়েছে; তার মধ্যে সর্বপ্রথম নির্বাচন হয় ১৯৫৪-৫৫ শিক্ষাবর্ষে।
সবশেষ ১৯৮৭-৮৮ শিক্ষাবর্ষে ছাত্রসংসদের ভিপি নির্বাচিত হন মো. আলমগীর সিকদার লোটন ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন জাহাঙ্গীর সিকদার জোটন।








