২০২৫ বছরটা জয়া আহসান তার ক্যারিয়ারে দারুণ এক সময় কাটাচ্ছেন। চলতি বছরে ইতোমধ্যেই ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ মিলিয়ে তার ডিয়ার মা, পুতুল নাচের ইতিকথা, তাণ্ডব, উৎসব সিনেমাগুলো মুক্তি পেয়েছে। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর আসছে জনপ্রিয় এই অভিনেত্রীর আরও এক সিনেমা, ‘ফেরেশতে’।
১২ সেপ্টেম্বর মুক্তির কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তারিখ এক সপ্তাহ পেছানো হয়েছে। হল সংক্রান্ত জটিলতাই ছবিটির মুক্তির তারিখ পেছানো হয়েছে বলে জানা গেছে। তাছাড়া সামনে শুরু হবে পূজার আমেজ। সেই উৎসবে দর্শকরা ছবিটি উপভোগ করতে পারবেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের সবগুলো সিনেপ্লেক্সে সিনেমাটি একযোগে মুক্তি পাবে। গত তিন বছর ধরে ‘ফেরেশতে’ নিয়ে দর্শক ও সংবাদকর্মীদের নিয়মিত প্রশ্ন শুনতে হতো জয়াকে, “কবে মুক্তি পাবে ছবিটি?” মুক্তির তারিখ ঘোষণার পর এবার সেই অপেক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে।

বর্তমানে কলকাতায় অবস্থান করছেন জয়া আহসান। গত ৭ সেপ্টেম্বর তিনি সেখানে উড়াল দেন। ব্যক্তিগত কিছু কাজও সেরে এই সপ্তাহেই ঢাকায় ফিরবেন। দেশে ফিরে নতুন সিনেমার প্রচারণায় অংশ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন এই তারকা।
ইরানি নির্মাতা মুর্তজা অতাশ জমজম পরিচালিত ‘ফেরেশতে’ সমাজের প্রান্তিক মানুষের জীবনের গল্প। নির্মাতা রিয়েল লোকেশনে শুটিং করে সিনেমাটিকে বাস্তবসম্মত করার চেষ্টা করেছেন।
এই কাজকে জয়া বলেছেন ‘ভীষণ চ্যালেঞ্জিং অভিজ্ঞতা’। তার ভাষায়— ‘আমাদের দেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ভেতরে যে সংগ্রামী ও সাহসী চরিত্র রয়েছে, তাদেরই একজনের ভূমিকায় আমি অভিনয় করেছি। পুরো টিম সহযোগিতা করায় কঠিন শুটিং সুষ্ঠুভাবে শেষ করা সম্ভব হয়েছে।’

নির্মাণের পর থেকেই ছবিটি ঘুরে বেড়িয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উৎসবে। ইরানের মর্যাদাপূর্ণ ফজর চলচ্চিত্র উৎসবে মানবিক বার্তার জন্য ছবিটি জিতেছে পুরস্কার। এছাড়া ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ২০২৪–এর উদ্বোধনী চলচ্চিত্র হিসেবেও প্রদর্শিত হয় ‘ফেরেশতে’।
ভারতের গোয়া আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবেও হয়েছে প্রশংসিত। বিদেশি চলচ্চিত্রপ্রেমীদের হাততালি কুড়ানোর পর এবার দেশের দর্শকের সামনে হাজির হচ্ছে সিনেমাটি।
ছবির মূল অভিনেতা ও প্রযোজক সুমন ফারুক বলেন, ‘আমরা যেমন বিদেশি সিনেমা দেখে তাদের সংস্কৃতি জানতে পারি, তেমনি ‘ফেরেশতে’ আমাদের সমাজ-সংস্কৃতির গল্প তুলে ধরেছে। প্রান্তিক মানুষের যে গল্প উচ্চবিত্ত সমাজ সহজে ভাবে না, সেই গল্প বলেছে সিনেমাটি। বিদেশে প্রচুর প্রশংসা পেয়েছি, এবার আমাদের দেশের দর্শকরা হাততালি দেবেন বলে আশা করছি।”
তিনি আরও বলেন, “সিনেমাটি মানবিক মূল্যবোধ ও অনুভূতির মিশেলে তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের সমাজ–সংস্কৃতির সৌন্দর্যকে নির্মাতা চমৎকারভাবে তুলে ধরেছেন। আশা করি দেশীয় দর্শকও ছবিটিকে আপন করে নেবেন।”

জয়া আহসান ও সুমন ফারুক ছাড়াও সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন শহীদুজ্জামান সেলিম, শাহেদ আলী, রিকিতা নন্দিনী শিমু, শাহীন মৃধা এবং শিশুশিল্পী সাথী। প্রযোজনার দায়িত্বে ছিলেন সুমন ফারুক, আর সহ-প্রযোজক হিসেবে যুক্ত ছিলেন জয়া আহসান নিজেও।
ছবির চিত্রনাট্য লিখেছেন বাংলাদেশের মুমিত আল-রশিদ, যিনি ফারসি ও বাংলার অনুবাদেও কাজ করেছেন ফয়সাল ইফরানের সঙ্গে।
বাংলাদেশে ইতিমধ্যে পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জয় করেছেন জয়া আহসান। সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত ‘ফেরেশতে’ এবার বাংলাদেশি দর্শকের মন জয় করতে প্রস্তুত। এখন দেখার বিষয়, এই সিনেমা দেশীয় প্রেক্ষাগৃহে কতটা সাড়া জাগায়।








