ফেনীর মহুরীগঞ্জে গেটম্যানের অবহেলায় মর্মান্তিক ট্রেন ও বালুর ট্রাক সংঘর্ষে ৬ জন নিহতের ঘটনায় ১ নম্বর আসামী গেটম্যান সাইফুল ইসলামকে (৩৫) আটক করেছে র্যাব।
রোববার ৭ এপ্রিল রাতে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে র্যাব-৭ ফেনী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার মোহাম্মদ সাদেকুল ইসলাম। এর আগে এদিন বিকেলে চট্টগ্রামের মিরসরাই থানাধীন বামনসুন্দর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
আটককৃত আসামি চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই থানাধীন উত্তর সোনাপুর এলাকার মৃত শেখ মো. আনোয়ারুল আজিম এর ছেলে।
র্যাব-৭ জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-৭, চট্টগ্রামের একটি আভিযানিক দল রোববার বিকেলে চট্টগ্রামের মিরসরাই থানাধীন বামনসুন্দর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আসামি মো. সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। পরে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি মামলার পলাতক আসামি মর্মে স্বীকার করে।
গত ৫ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে ডিউটি রোস্টার অনুযায়ী ফেনীর ফাজিলপুর-মুহুরীগঞ্জ সেকশনে গেইট নং ই-৩২ (এ) এর গেটম্যান হিসেবে মো. সাইফুল ইসলাম কর্তব্যরত ছিলেন। আনুমানিক সকাল ৮টায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী ঢাকা মেইল ট্রেনটি ফেনীর ফাজিলপুর-মুহুরীগঞ্জ এলাকায় পৌঁছালে কর্তব্যরত গেটম্যান সাইফুল ইসলামের কর্তব্যে অবহেলার কারণে একটি বালুবাহী ট্রাক রেলগেইট খোলা পেয়ে রেলক্রসিং পারাপারের সময় ট্রেনটি ধাক্কা দিয়ে ট্রাকটিকে চূর্ণবিচূর্ণ করে রেলক্রসিং থেকে আনুমানিক ১০০ মিটার সামনে দূরে ফেলে দেয়। ঘটনাস্থলে দু’জন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ৪ জন তরুণসহ মোট ৬ জন মৃত্যুবরণ করেন।

র্যাব-৭ জানায়, দুর্ঘটনার সময় দায়িত্বে নিয়োজিত গেটম্যান ঘটনাস্থলে না থাকার ফলে ওই সময় সিগন্যাল ব্যারিয়ারটি ফেলা হয়নি। সিগন্যাল ব্যারিয়ার না ফেলার কারণে বালুবাহী ট্রাকটি বিনা বাধায় রেললাইনে উঠে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুতগতির ট্রেন ট্রাকের পেছনের অংশে ধাক্কা দেয় এবং হতাহতের ঘটনা ঘটে। এঘটনায় বাংলাদেশ রেলওয়ে এসএসএই/ ওয়ে/ চিনকী আস্তানা (ভারপ্রাপ্ত) বাদি হয়ে লাকসাম রেলওয়ে থানায় দু’জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। মামলার পর আসামিরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামি সংক্রান্তে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লাকসাম রেলওয়ে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান র্যাব।








