ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের ন্যাশনাল কনফারেন্সের সভাপতি ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাহর ওপর কাছ থেকে গুলি চালিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। তবে নিরাপত্তারক্ষীদের তৎপরতায় অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন তিনি।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
বুধবার (১১ মার্চ) সন্ধ্যায় জম্মুর গ্রেটার কৈলাশ এলাকার রয়্যাল পার্কে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গেলে এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি খুব কাছ থেকে বন্দুক তাক করে গুলি চালানোর চেষ্টা করেন। সে সময় ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ড (এনএসজি)-এর কমান্ডোরা দ্রুত তাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলে গুলিটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় এবং অল্পের জন্য রক্ষা পান ফারুক আবদুল্লাহ। ঘটনাটির একটি নাটকীয় ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
হামলাকারীকে কমল সিং জামওয়াল নামে শনাক্ত করা হয়েছে। তাকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয়। পরে দেখা যায়, ধরা পড়ার পর উপস্থিত কিছু মানুষ তাকে মারধরও করেন।
গ্রেপ্তারের পর পুলিশের কাছে তিনি নিজেকে জম্মুর পুরানাস মান্ডি এলাকার বাসিন্দা বলে জানান। ৬৫ বছর বয়সী এই ব্যক্তি নাকি কোনো অনুশোচনা না দেখিয়ে বলেছেন, গত ২০ বছর ধরে তিনি এই সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন।
পুলিশ এক বিবৃতিতে জানায়, জম্মুর গ্রেটার কৈলাশের রয়্যাল পার্কে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা অবস্থায় ফারুক আবদুল্লাহর জীবনের ওপর হামলার চেষ্টা করা হয়।
এ ঘটনাকে হত্যাচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেছেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ও ফারুক আবদুল্লাহর ছেলে ওমর আবদুল্লাহ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে ওমর আবদুল্লাহ বলেন, আল্লাহ দয়ালু। আমার বাবা অল্পের জন্য বড় বিপদ থেকে বেঁচে গেছেন। এখনো বিস্তারিত তথ্য পরিষ্কার নয়। তবে জানা গেছে, একটি লোডেড পিস্তল হাতে একজন ব্যক্তি খুব কাছ থেকে গুলি চালাতে সক্ষম হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, বাবার নিরাপত্তা টিম দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে গুলির দিক ঘুরিয়ে দেয় এবং হত্যাচেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়। তবে কীভাবে একজন ব্যক্তি এনএসজি সুরক্ষিত একজন সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর এত কাছে পৌঁছাতে পারল এ নিয়ে এখনও অনেক প্রশ্ন রয়ে গেছে।
ঘটনার সময় ফারুক আবদুল্লাহর সঙ্গে জম্মু ও কাশ্মীরের উপমুখ্যমন্ত্রী সুরিন্দর চৌধুরী এবং মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা নাসির সোগামিও উপস্থিত ছিলেন।
নাসির সোগামি বলেন, এটি ফারুক আবদুল্লাহকে হত্যার চেষ্টা ছিল। তবে সৌভাগ্যবশত গুলিতে কেউ আহত হননি।
তিনি জানান, হামলার উদ্দেশ্য কী ছিল বা এটি নিরাপত্তা ত্রুটির ফল কি না তা এখনও নিশ্চিত নয়।
তিনি আরও বলেন, এই মুহূর্তে আমরা কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারছি না। আল্লাহর রহমতে আমরা সবাই নিরাপদ আছি এবং ফারুক আবদুল্লাহ নিরাপদ আছেন।








