ময়মনসিংহে বিভাগীয় সমাবেশে বিএনপি নেতারা বলেছেন, গাইবান্ধা নির্বাচন প্রমাণ করেছে দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। বাস বন্ধ করে দিয়ে, হামলা করে বিএনপির সমাবেশ আর আন্দোলন থামানো যাবে না বলে জানান বিএনপি নেতারা।
বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে বলেও জানান তারা।
জ্বালানি তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, গুম-খুনের প্রতিবাদ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ বেশ কিছু দাবিতে রাজধানীতে সমাবেশ করেছে বিএনপি। ময়মেনসিংহের সমাবেশে দলের নেতারা জানালেন নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনই তাদের মূল দাবি।
গণসমাবেশে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, খুব স্পষ্ট কথা নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে, বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। সবার সমবেত চেষ্টায় সরকারকে বাধ্য করবো এই দাবি মেনে নিতে।
জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ময়মনসিংহের এই সমাবেশ প্রমাণ করে দিলো এই সরকারকে আর রাখা যাবে না। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই যাবে বিএনপি।
জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন: পরিষ্কার করে বলে দিতে চাই গাড়ী বন্ধ করে দিয়ে, হামলা করে বিএনপির নেতা- কর্মীদের আটকে রাখা যাবে না। রাজপথেই ফয়সালা হবে।
জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন: দুর্নীতির কারণেই এখন দুর্ভিক্ষের কথা বলছে, বিদ্যুতের অভাবে চরম ভোগান্তি। আমাদের সমাবেশগুলো প্রমাণ করে দিচ্ছে এই সরকারের অধীনে কোন নির্বাচন হবে না।
বিকেলে ময়মনসিংহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট মাঠে বিভাগীয় গণসমাবেশে ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। বেলা দুইটায় এ সমাবেশ শুরু হয়। তবে গতকাল শুক্রবার রাত থেকেই বিএনপির বিভিন্ন জেলার অনেক নেতা-কর্মী সমাবেশস্থলে উপস্থিত হয়ে সেখানে রাত্রিযাপন করেন।গণসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এ কে এম শফিকুল ইসলাম।
এরআগে চট্রগ্রামের পর বিএনপি’র দ্বিতীয় বিভাগীয় সমাবেশ ময়মনসিংহে। শহরের পলিটেকনিক্যাল মাঠের সমাবেশে বিভিন্ন জেলা আর থানা থেকে এসে যোগ দেন বিএনপি’র নেতা কর্মীরা। ২২ অক্টোবর শনিবার খুলনায় বিভাগীয় সমাবেশ করবে বিএনপি।
চট্রগ্রামের মতো ময়মনসিংহেও সমাবেশে যোগ দিয়েছেন দলের সিনিয়র নেতা থেকে শুরু করে অংগ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা। সমাবেশগুলোতে বাধা দেওয়া এবং পরিবহন বন্ধ করে দেয়াসহ সরকারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ছিল তাদের।







