কক্সবাজারের উখিয়ায় মধ্যরাতে ঘরে ঢুকে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার ৩ মার্চ ভোররাতে উখিয়া উপজেলার হলদিয়াপালং ইউনিয়নের পূর্ব মরিচ্যা মধুঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত লালা বিবি (৩০) একই এলাকার মালয়েশিয়া প্রবাসী আব্দুর শুক্কুরের স্ত্রী। তিনি দুই শিশু সন্তানের জননী।
নিহতের স্বামীর বড় ভাই আব্দুল আলম বলেন, তার প্রবাসী ছোট ভাইয়ের স্ত্রী লালা বিবি সন্তানদের নিয়ে ঘরে একাই থাকতেন। মঙ্গলবার ভোর ৩ টার দিকে তিনি সেহেরি খাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এক পর্যায়ে ২-৩ জন দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। দুর্বৃত্তদের মারধরের আঘাতে লালা বিবির চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।
তিনি বলেন, এ সময় স্বজনরা ঘরের ভেতরে লালা বিবিকে রক্তাক্ত অবস্থায় মৃত পড়ে থাকতে দেখেন। তার মাথা, গলা ও হাতে রক্তাক্ত আঘাত রয়েছে। আঘাতের ধরন ও অর্ধ-বিবস্ত্র অবস্থায় পাওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, তাকে হত্যার আগে ধর্ষণ করেছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় জনৈক ব্যক্তির সাথে তার ছোট ভাইয়ের দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। পূর্ব বিরোধের জেরেও এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর আহম্মদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ভোর ৫ টার দিকে ঘটনাটি অবহিত হওয়ার পর পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ সময় ঘরের ভিতরে ওই গৃহবধূকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
ওসি বলেন, নিহতের মাথায় রক্তাক্ত জখম, গলায় হাতের চাপ এবং এক হাত মুচড়ে যাওয়ার মত ফোলা আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাস্থলে নিহতকে অর্ধ-বিবস্ত্র অবস্থায় পাওয়া গেছে।
স্বজনদের ধর্ষণের অভিযোগের ব্যাপারে ওসি বলেন, ভূক্তভোগী গৃহবধূ কম ঘনবসতিপূর্ণ পাহাডড়ি টিলা এলাকায় সন্তানদের নিয়ে একা থাকতেন। তবে ঘরে কিছু জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় পাওয়া গেলেও স্বজনদের কাছ থেকে লুটের অভিযোগ আসেনি।
খুনের ঘটনাটি নিছক ডাকাতি নাকি ধর্ষণের কারণে-তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে জানান নুর আহম্মদ।
তিনি জানান, ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ অব্যাহত রেখেছে। জড়িতদের চিহ্নিত করা সম্ভব হলে পুলিশ গ্রেপ্তারে অভিযান চালাবে। নিহতের লাশ কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।






