রোহিত শর্মা ও রবীন্দ্র জাদেজার সেঞ্চুরিতে চারশতাধিক রানের সংগ্রহ গড়েছিল ভারত। জবাবে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন বেন ডাকেট। পেয়েছেন সেঞ্চুরিও। বাঁহাতি ওপেনার ব্যাটিং প্রদর্শনীতে দ্বিতীয় দিন শেষে শক্ত ভিত পেয়েছে ইংল্যান্ড।
রাজকোট টেস্টের দ্বিতীয় দিন পাঁচ উইকেট হাতে রেখে ৩২৬ রানে ব্যাটে নেমে ৪৪৫ রানে থামে ভারত। দিন শেষে ২ উইকেটে ২০৭ রান তুলেছে ইংল্যান্ড। এখনও ২৩৮ রানে পিছিয়ে আছে সফরকারীরা। তৃতীয় দিন বেন ডাকেট ১৩৩ রানে ও জো রুট ৯ রানে ব্যাটে নামবেন।
ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি পেয়েছেন ডাকেট। ৮৮ বলে পূর্ণ করেন সেঞ্চুরি। ভারতের বিপক্ষে টেস্টে ইংল্যান্ডের কোনো ব্যাটারের দ্রুততম সেঞ্চুরি এটি। এরআগে ১৯৯০ সালে লর্ডসে ৩৩৩ রানের ইনিংস খেলার পথে ৯৫ বলে শতক ছুঁয়েছিলেন তখনকার ইংলিশ অধিনায়ক গ্রাহাম গুচ। ১১৮ বলে ১৩৩ রানে অপরাজিত ডাকেটের ইনিংসে রয়েছে ২১টি চার ও দুটি ছক্কা।
দ্বিতীয় দিনে ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে জ্যাক ক্রলিকে আউট করে ৫০০ উইকেটের এলিট ক্লাবে প্রবেশ করেছেন রবীচন্দ্রন অশ্বিন। দ্বিতীয় ভারতীয় এবং বিশ্বের নবম ক্রিকেটার হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে এই মাইলফলক স্পর্শ করেন ৩৭ বছর বয়সী অফ স্পিনার। তার আগে ব্যাট হাতে ৩৭ রানের ইনিংস খেলেন তিনি।
দ্বিতীয় দিন ৪৫ ওভার ব্যাটিং করে ভারত। ১১৯ রান যোগ করে তারা। দিনের শুরুতে পরপর দুই ওভারে ২ ব্যাটারকে হারায় ভারত। কুলদীপ যাদবকে ফিরিয়ে দেন জেমস অ্যান্ডারসন। জো রুটকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ফেরেন রবীন্দ্র জাদেজা। ৯ চার ও ২ ছক্কায় ২২৫ বলে ১১২ রানে ফিরে যান।
এরপর ইংলিশ বোলারদের ভোগায় অশ্বিন ও জুরেলের জুটি। অষ্টম উইকেটে ১৭৫ বলে ৭৭ রানের জুটি গড়েন দুজন। অভিষেকে সামর্থ্যের ঝলক দেখিয়ে ১০৪ বলে ৩ ছক্কা ও ২ চারে ৪৬ রান করেন ধ্রুব জুরেল। পরে শেষ উইকেট জুটিতে দুই পেসার জাসপ্রীত বুমরাহ ও মোহাম্মদ সিরাজ ৩০ রান যোগ করেন। ২৮ বলে ৩ চার ও এক ছক্কায় ৩৬ রান করেন বুমরাহ।
প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ডের মার্ক উড চারটি, রেহান আহমেদ দুটি, জেমস অ্যান্ডারসন, জো রুট এবং টম হার্টলি একটি করে উইকেট নেন।
স্কোরবোর্ডে ৫ রান নিয়েই প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং শুরু করে ইংল্যান্ড। অশ্বিন ব্যাটিংয়ের সময় পিচের গুরুত্বপূর্ণ অংশ মাঝখান দিয়ে ভারতীয় ব্যাটারদের দৌড়ানোর কারণে জরিমানা করা হয়। টিম ইন্ডিয়ার প্রথম ইনিংসের ১০১.৩ ওভারে ঘটে জরিমানার ঘটনা।
ব্যাটে নেমে দেখে শুনেই শুরু করেন জ্যাক ক্রলি। অন্যপ্রান্তে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে শুরু করে ডাকেট। ৩৯ বলে ফিফটি পুর্ণ করেন ডাকেট।
ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় ওভারে ক্রলিকে ফিরিয়ে উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন অশ্বিন। ২৮ বলে ১৫ রান করে ফিরে যান ইংলিশ ওপেনার। দ্বিতীয় উইকেটে অলিভার পোপের সঙ্গে পঞ্চাশোর্ধ জুটি গড়েন ডাকেট। সেঞ্চুরিও পূর্ণ করে নেন। ৮৮ বলে সেঞ্চুরি ছোঁয়া ইনিংসে ছিলে ১৯টি চার ও একটি ছক্কার মার।
১৮২ রানে পোপকে ফিরিয়ে ১০২ বলে ৯৩ রানের জুটি ভাঙেন সিরাজ। ৫৫ বলে ৩৯ রান করেন এই পোপ। পরে জো রুটকে নিয়ে দিনের বাকিটা কাটিয়ে দেন ডাকেট।







