অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাতের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক এনায়েত করিম চৌধুরীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।
শনিবার তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাকে সাত দিনের রিমান্ড নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রমনা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক মো. আজিজুল হাকিম।
ওইদিন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিলরুবা আফরোজ তিথি তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। একই সঙ্গে রিমান্ড শুনানির জন্য পুলিশ হেফাজতে নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের শুনানির জন্য সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দিন ধার্য করেন।
ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ কমিশনার মাসুদ আলম বলেন, ওই ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্টধারী। তার আচরণে সন্দেহ হওয়ায় তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে আদালতে পাঠানো হয়। তার বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এনায়েত করিমকে রিমান্ডে নিতে আদালতে আবেদন করেছে রমনা থানা পুলিশ।
আবেদনে বলা হয়, ওই ব্যক্তি নিউ ইয়র্ক থেকে বাংলাদেশে এসেছেন। তিনি ১৯৮৮ সালে আমেরিকায় যান এবং ২০০৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্ট পান। আর ৬ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে নিউ ইয়র্ক থেকে কাতার এয়ারওয়েজে করে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন। প্রথম দুইদিন হোটেল সোনারগাঁওয়ে ছিলেন। পরের কয়েকদিন গুলশানে ছিলেন।
আবেদনে বলা হয়, ওই ব্যক্তি নিউ ইয়র্ক থেকে বাংলাদেশে এসেছেন। তিনি ১৯৮৮ সালে আমেরিকায় যান এবং ২০০৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্ট পান। আর ৬ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে নিউ ইয়র্ক থেকে কাতার এয়ারওয়েজে করে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন। প্রথম দুইদিন হোটেল সোনারগাঁওয়ে ছিলেন। পরের কয়েকদিন গুলশানে ছিলেন।
রিমান্ডে নেওয়ার আবেদনে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে এনায়েতের বিরুদ্ধে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্রের’ তথ্য পাওয়ার দাবি তুলে ধরা হয়।
আবেদনে বলা হয়, ঢাকার মিন্টো রোডে প্রাডো গাড়িতে করে সন্দেহজনক চলাচল করতে দেখা যায় এনায়েত করিম চৌধুরীকে। এসময় তার গাড়ি থামিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি। এজন্য তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। সেখানে তার কাছ থেকে পাওয়া দুইটি আইফোন জব্দ করা হয়।
প্রাথমিকভাবে তার ফোন বিশ্লেষণ করে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার দাবি করা হয় আবেদনে।
এতে বলা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এনায়েত করিম দাবি করেন, তিনি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক।
তিনি বিশেষ একটি দেশের গোয়েন্দা সংস্থার চুক্তিভিত্তিক এজেন্ট। বর্তমানে বাংলাদেশের অন্তবর্তীকালীন সরকার খুব নাজুক অবস্থায় আছেন এবং সেনাবাহিনীর সাথে তাদের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। তিনি বর্তমান সরকারকে পরিবর্তন করে নতুন জাতীয় সরকার বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনে কাজ করার জন্য বাংলাদেশে এসেছেন বলে জানান।
আবেদনে এনায়েত করিমের বরাত দিয়ে বলা হয়, বাংলাদেশে আসার পর তিনি সরকারি উচ্চ ও নীতি নির্ধারক পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতা, ব্যবসায়ী মহলের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছেন।
বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটের আলোকে সরকারি ও বেসরকারি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বর্তমান অবস্থান এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের তথ্য সংগ্রহ করে তাকে নিয়ন্ত্রিত গোয়েন্দা সংস্থার কাছে হস্তান্তর করতেন বলে জানান।
পুলিশের রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে এনায়েত করিম তার আমেরিকান পাসপোর্টের তথ্য দিয়েছেন। ১৯৮৮ সালে আমেরিকায় যান এবং ২০০৪ সালে আমেরিকান পাসপোর্ট পান। তার বাংলাদেশের পাসপোর্টের কথা বললে তিনি জানান, আমেরিকায় যাওয়ার পর তার পাসপোর্ট হারিয়ে ফেলেন। এজন্য তার বাংলাদেশি পাসপোর্ট ও এনআইডি নেই। এ আসামি বর্তমানে বাংলাদেশের বৈধ অন্তবর্তীকালীন সরকারকে উৎখাত করার জন্য অন্যদেশের গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট হিসেবে বাংলাদেশে এসে জননিরাপত্তা এবং সার্বভৌমত্ব বিনষ্ট করার প্রচেষ্টায় লিপ্ত আছে যা ধর্তব্য অপরাধ।
এনায়েত করিম চৌধুরী ধর্তব্য অপরাধের সাথে জড়িত আছেন মর্মে যুক্তিযুক্ত সন্দেহ হওয়ায় তাকে আপাতত কার্যবিধি ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করা হয়।
এনায়েত করিমের কাছ থেকে আরও তথ্য সংগ্রহ, বর্তমান সরকার ‘উৎখাত ষড়যন্ত্রের’ সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের শনাক্ত করতে সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয় আবেদনে।
জানা যায়, আমেরিকান গোয়েন্দা সংস্থার নাম ভাঙিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই এনায়েত করিম ওরফে মাসুদ করিম প্রতারণা করে আসছিলো। বাংলাদেশে যখনই হাসিনা বিরোধী আন্দোলন তীব্র হয়ে উঠতো তখনই এই প্রতারক মাসুদ বিএনপি-জামায়াতের কিছু শীর্ষ নেতাদেরকে বিজনেস ক্লাসের টিকেট দিয়ে নিয়ে যেতেন থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরে।








