ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়া ও প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণের ভিত্তিতে নির্বাচনকে ‘গ্রহণযোগ্য মাত্রায় সুষ্ঠু, প্রতিযোগিতামূলক, অংশগ্রহণমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক’ বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। তবে একইসঙ্গে সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রধান বিরোধী দল বাইরে থাকায় নির্বাচন কতটা অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাবে।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করলেও সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে সব অনিয়ম প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়নি।
টিআইবির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, নির্বাচনে ২১ দশমিক ৪ শতাংশ ক্ষেত্রে জাল ভোট পড়েছে এবং ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষের এজেন্টদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার ১২৫টি ঘটনা ঘটেছে। সংস্থাটি আরও জানায়, শুরুতে তুলনামূলক সুস্থ প্রতিযোগিতার লক্ষণ দেখা গেলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের মধ্যে আন্তঃদলীয় কোন্দল, অসুস্থ প্রতিযোগিতা ও সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
পর্যবেক্ষণে বলা হয়, প্রায় সব স্তরেই আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। ৯৯ শতাংশ প্রার্থী আচরণবিধির ৫৮টি বিষয়ের মধ্যে অন্তত একটি লঙ্ঘন করেছেন। অর্থ, ধর্ম এবং পেশীশক্তির ব্যবহারও ব্যাপকভাবে লক্ষ্য করা গেছে, যা নির্বাচনি পরিবেশকে প্রভাবিত করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নির্বাচন কমিশন অনেক চেষ্টা করেছে, তবে সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে সব ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন প্রকৌশল বা ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর সুনির্দিষ্ট প্রমাণ তারা পাননি, তবে এমন কিছু ঘটেছে কি না, তা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
আওয়ামী লীগ নির্বাচন প্রক্রিয়ার বাইরে থাকলেও নির্বাচন কতটা অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়েছে, এ বিষয়ে প্রশ্ন থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে তিনি উল্লেখ করেন, তৃণমূল পর্যায়ে অনেক আওয়ামী লীগ সমর্থক ভোট দিয়েছেন।
টিআইবির পর্যবেক্ষণে বিএনপির কিছু নির্বাচিত প্রার্থীর ঋণগ্রস্ততার বিষয়টি উঠে এলেও সংস্থাটি স্পষ্ট করেছে, ঋণগ্রস্ত হওয়া এবং ঋণ খেলাপি হওয়া এক বিষয় নয়। আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা ঋণ খেলাপি নন।
সংস্থাটি মনে করে, নির্বাচন কমিশনের প্রচেষ্টা দৃশ্যমান থাকলেও আচরণবিধি লঙ্ঘন, সহিংসতা এবং অসুস্থ প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন ছিল। তা সত্ত্বেও সার্বিক বিবেচনায় নির্বাচন গ্রহণযোগ্য মাত্রায় সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতামূলক হয়েছে বলে তাদের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়েছে।








