কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার বলেছেন, বাংলাদেশে নির্বাচন এখন সবচেয়ে বড় সংকট। আজকের এই নির্বাচন নিয়ে আলোচনা আসলে আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার চিন্তা। রাষ্ট্র মানে শুধু আইন নয়; জনগণের ইচ্ছা ও অভিপ্রায় নিয়ে সংবিধান ও রাষ্ট্রের গঠনতন্ত্র তৈরি হবে।
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ফরহাদ মজহার বলেন, বাংলাদেশে দুই প্রকার জাতি বিরাজ করছে। এটি হিন্দু–মুসলিম লড়াই নয়; বরং গরিব মানুষের লড়াই। আমরা এখন জটিল অবস্থায় পৌঁছে গেছি। ১৯৭২ সালের সংবিধানে ফিরে যেতে হবে। রাজনীতি ও আইন এক জিনিস নয়। সংবিধানের মৌলিক মানবাধিকার ও গণ-সার্বভৌমত্ব কায়েম করতে পারলেই এই দেশের সংকটের সমাধান মিলবে।
তিনি আরও বলেন, নৈতিক ও আদর্শিক ভিত্তিতে নতুনভাবে বাংলাদেশকে গঠন করতে হবে। সংখ্যালঘুদের জন্য আলাদা আসন কেন চাইবেন? হিন্দু–মুসলমান বিভাজন ব্রিটিশরা তৈরি করে গেছে। আগে মানুষ হতে হবে। নীতির প্রশ্নে না দাঁড়ালে সবাই বিপদের মুখে পড়বে। রাষ্ট্র জনগণের কোনো অধিকার হরণ করতে পারে না। তাই নতুন গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করতে হবে। সংখ্যালঘু নয়, প্রথম পরিচয় হতে হবে মানুষ হিসেবে। আমরা এখনও রাষ্ট্র গঠন করতে পারিনি।
চর্চার সম্পাদক সোহরাব হোসেন বলেন, গত ৫৪ বছরে রাষ্ট্র সকলের জন্য হয়নি। আগামী নির্বাচনে কোন দল অংশ নেবে আর কে নেবে না—তা অনেকটাই স্পষ্ট। কিন্তু ভোটকেন্দ্রে ভোটাররা নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবে কি না, সেই শঙ্কা এখনও রয়ে গেছে।
ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক এম এ আজিজ বলেন, ২০২৪ সালের অভ্যুত্থান ১৯৭১-এর চেতনাকে মুছে দিতে চায়। গণভোটে সমর্থন না পেলে দেশ আরও গভীর সংকটে পড়তে পারে। যে দল মাঠে আছে তারা আদৌ নির্বাচন চায় কি না, সে প্রশ্নও রয়েছে। তিনি বলেন, মব সন্ত্রাস দিয়ে সমাজকে দুর্বল করা হচ্ছে। ইউনূস সরকারের আমলে ছাত্ররা রাজনীতিতে ঢুকে শিক্ষার সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। নির্বাচন হবে কি না—তা নিয়েও শঙ্কা আছে। নির্বাচন শুধু একটি পদ্ধতি। গণপরিষদ নির্বাচন হবে, সেখানে নতুন গঠনতন্ত্র প্রণয়নে সবার ঐক্য প্রয়োজন। গণতন্ত্র মানে আমলাতান্ত্রিক কাঠামো নয়; রাষ্ট্রের সব স্তরে জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ থাকতে হবে। সামনে বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কাও তিনি ব্যক্ত করেন। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নাগরিক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত হতে হবে—এই দেশ সবার।
আইনজীবী মঞ্জিল মোর্শেদ বলেন, মিডিয়ায় স্বাধীনতা নেই। জুলাই আন্দোলনে বৈষম্যবিরোধী সমাজের কথা বলা হলেও কোনো পরিবর্তন হয়নি। যে পরিবর্তন হয়েছে তা রহস্যজনক। ৭০ শতাংশ মানুষ ড. ইউনূসের সঙ্গে নেই। ১৯৭২ সালের সংবিধানকে দলীয় ও ভারতের করা সংবিধান বলে ভুলভাবে প্রচার করা হচ্ছে। বিচারকরা স্বাধীনভাবে বিচার করতে পারছেন না; বিচার বিভাগকে প্রভাবিত করা হচ্ছে। আসন্ন নির্বাচন না হলে দেশ মহাসংকটে পড়বে। রাষ্ট্রকে গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে হবে।
সভায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ ও আশঙ্কা প্রকাশ করে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ জানায়, মুক্তিযুদ্ধ ও গণ-অভ্যুত্থানের চেতনায় যুগোপযোগী সংস্কার জরুরি। তারা ১৯৭২ সালের সংবিধানকে সমুন্নত রাখা, রাজনীতি ও নির্বাচনে ধর্মের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা, এবং জাতীয় নির্বাচনের কমপক্ষে এক মাস আগে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় সেনা ও বিশেষায়িত বাহিনী মোতায়েনের দাবি জানায়।








