ভোটগ্রহণের ১৭ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো গণনা শেষ করতে না পারায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে অস্থিরতা বাড়ছে। ম্যানুয়াল পদ্ধতি ব্যবহারে ভোগান্তি ও অপেক্ষা বাড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন প্রার্থী ও ভোটাররা। এমন বিলম্বের নজরে আছে বলে জানিয়েছেন জাবি উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসান। নির্বাচন কমিশন বিষয়টি দেখবে বলেও জানান তিনি।
শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রীতিলতা হলের পোলিং অফিসার ও সহকারী অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌসের জানাজা পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় এ কথা জানান তিনি।
জাবি উপাচার্য বলেন, ‘ভোট গণনা বিলম্ব হওয়ার বিষয়টি নজরে আছে, নির্বাচন কমিশনার বিষয়টি দেখবেন। আমি নিজেও যাব, কথা বলব, যাতে করে দ্রুত গণনার কাজ শেষ করা হয়।’
এ সময় নির্বাচন কমিশনের সদস্য মো.মাফরুহী সাত্তার বলেন, ‘এখন আটটি টেবিলে ভোট গণনা হচ্ছে, সন্ধ্যার আগেই ১০টিতে হবে। আশা করি দ্রুত ফলাফল দেওয়া হবে।’
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও নির্বাচন কমিশনের সদস্যসচিব এ কে এম রাশিদুল আলম আশা করছেন, বেসরকারিভাবে রাত ১১টার মাঝে ফল জানাতে পারবেন।
দীর্ঘ ৩৩ বছর পর এবার ভোট হচ্ছে জাকসুতে। এ নির্বাচনে ১১ হাজার ৭৪৩ জন ভোটার কেন্দ্রীয় সংসদের ২৫টি পদে নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করবেন। ভোটারদের মধ্যে ছাত্র ছয় হাজার ১৫ জন, ছাত্রী পাঁচ হাজার ৭২৮ জন।
কেন্দ্রীয় সংসদে মোট ২৫টি পদে লড়ছেন ১৭৭ জন প্রার্থী, যার মধ্যে ছাত্র ১৩১ ও ছাত্রী ৪৬ জন। সহসভাপতি (ভিপি) পদে প্রার্থী ৯ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে আটজন। এ ছাড়া যুগ্মসাধারণ সম্পাদক (নারী) পদে ছয়জন ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (পুরুষ) পদে রয়েছেন ১০ জন প্রার্থী।
এদিকে প্রতিটিতে ১৫টি করে মোট ২১টি হল সংসদে পদের সংখ্যা ৩১৫টি। এর বিপরীতে প্রার্থী হয়েছেন ৪৪৭ জন। এর মধ্যে ১১টি ছাত্র হলের প্রার্থী সংখ্যা ৩১৬ জন, ১০টি ছাত্রী হলের প্রার্থী সংখ্যা ১৩১ জন।
এদিকে ছাত্রীদের ১০টি আবাসিক হলে ১৫০টি পদের মধ্যে ৫৯টিতে কোনো প্রার্থী ছিলেন না। একজন করে প্রার্থী ছিলেন ৬৭টি পদে। সে হিসাবে মাত্র ২৪টি পদে ভোট নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টি হলের মধ্য দুটি হলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছেন।








