ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময়মূল্য বেড়ে যাওয়ার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাজারে। পাইকারি পর্যায়ে ভোজ্যতেল, মসলা, ডাল, খাদ্যের কাঁচামাল ও ড্রাই ফ্রুটসের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম সপ্তাহ ব্যবধানে বেড়েছে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত। ব্যবসায়ীরা বলছেন: ডলারের দাম এক লাফে ৭ টাকা বেড়ে যাওয়ায় আমদানিমূল্য ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে গেছে। তাই দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
অপরদিকে ডলারের দাম বৃদ্ধিতে দেশে জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়লে এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব আরও ব্যপকভাবে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
রাজধানীর বৃহত্তম আমদানি পণ্যের বাজার চকবাজার এবং বেগম বাজার। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডলারের মূল্যবৃদ্ধি ঘোষণার পরই এই বাজারগুলোতে পণ্যের বেচা-কেনা বন্ধ করে দেন ব্যবসায়ীরা। কিছু কিছু ব্যবসায়ী বাড়তি দরে পণ্যে বিক্রি করছিলেন। অতিরিক্ত লাভের আশায় অনেকেই পণ্য ছাড়ছিলেন না। তবে এখন আবারও পণ্য বিক্রি শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা। তবে প্রতি পণ্যে ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি রাখছেন।
তবে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে মসলা জাতীয় পণ্যের। কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে চাহিদার তুঙ্গে থাকা সকল ধরনের মসলা কেজিতে বেড়েছে ২০০ টাকা পর্যন্ত।
বেগম বাজারের ব্যবসায়ী হাজী ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী হাজী ইকবাল চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: আগের তুলনায় বেড়েছে সব ধরণের আমদানী পণ্যের দাম। বিশেষ করে মসলা, এছাড়া- ডাল জাতীয় পণ্যের দাম বেড়েছে সব থেকে বেশি। ডলার সংকট এবং এলসি খোলার ভোগান্তির কারণে বাজার এমনিতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিলো। অনেক ব্যবসায়ী বাড়তি লাভের আশায় পণ্য ছাড়ছে না। এখন বাজার বাড়তি। সামনে আরও বাড়বতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে পর্যাপ্ত মজুদ থাকলেও বাড়তি দাম ধরে পণ্য বিক্রি করতে চাইছেন ব্যবসায়ীরা। যার কারণে রোজার ঈদের পর ভোগ্যপণ্যের বাজার মোটামোটি স্থিতিশীল থাকলেও আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে ভোগ্যপেণ্যের বাজারে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঈদকে সামনে রেখে বাজার নিয়ন্ত্রণে শুল্ক ছাড়ের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
অন্যদিকে বাড়তি দামে ছোঁয়া লেগেছে শাক-সবজি, মাছ-মাংস থেকে শুরু করে সব ধরণের নিত্যপণ্যের বাজারে ৭০ টাকার নিচে মিলছে না কোন ধরণের মাছ। ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৩০ টাকা দরে, সোনালি জাতের মুরগি সপ্তাহখানেক আগে যেখানে ৪৩০ থেকে ৪৫০ টাকা প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছিলো সেটার দাম কিছুটা কমে ৩৭০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি মুরগির দাম চাওয়া হচ্ছে ৬০০ টাকা করে। গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকা এবং খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা কেজি দরে।







