ওলুওয়াটোসিন, বয়স ১৭। লিডস সিক্সথ ফর্ম কলেজ থেকে ‘এ-লেভেল’ সম্পন্ন করতে যাচ্ছেন। তিনি জানান, পরীক্ষার সময় যত ঘনিয়ে আসছে তত বেশি দুঃস্বপ্ন দেখছেন। তিনি দুঃস্বপ্নটিকে বর্ণনা করে বলেন, ‘মনে হয় আমি একটি পরীক্ষার হলে আছি। সামনে গণিতের প্রশ্ন। কিন্তু আমার প্রস্তুতি পরিসংখ্যান এবং মেকানিক্সের জন্য। পরীক্ষাটি এমন প্রশ্নে পূর্ণ যার জন্য আমি প্রস্তুত নই।
বিবিসি জানিয়েছে, এই স্বপ্ন দেখার পরপরই ঘুম ভেঙে যায় ওলুওয়াটোসিনের। ঘাম এবং মাথাব্যাথা নিয়ে জেগে উঠে তিনি বুঝতে পারেন এটি ছিল দিবাস্বপ্ন। ওলুওয়াটোসিন বলেন, এটা বন্ধের কি কোন উপায় আছে।
১৯ বছর বয়সী জুহাল প্রায়শই স্বপ্ন দেখেন যে পরীক্ষা হলে পৌঁছাতে তিনি দেরি করছেন। তিনি বলেন, “আমি সময় দেখতে অ্যালার্ম বাজার আগেই দুই বা তিনবার জেগে উঠি। আমার মনে হয়, আমার আরও এক ঘণ্টা ঘুমানো দরকার, কিন্তু আমি পারছি না।”
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর কলিন এস্পি বলেন, আমরা ঘুমিয়ে থাকলেও আমাদের মস্তিষ্ক জেগে থাকে। তারা আমরা যা শিখেছি তা প্রক্রিয়া করতে ব্যস্ত। আমাদের স্মৃতি তৈরি করতে এবং আমাদের আবেগ প্রক্রিয়া করতে ব্যস্ত। কিন্তু সাথে সাথে মস্তিষ্ক এক ধরনের আউটপুট দেয় যা আমরা স্বপ্ন হিসেবে জানি।
তিনি আরও বলেন, পরীক্ষা নিয়ে স্বপ্নগুলো আমাদের আশ্বস্ত করতে পারে। এর মাধ্যমে সম্ভবত আপনার মস্তিষ্ক আপনাকে বলছে, ‘আমি জানি এটি আপনার জন্য, আমি জানি যে এখনও কিছু কাজ বাকি আছে। আমি এটি নিয়ে কাজ করছি।’ তিনি বলেন, মস্তিষ্ক কেবল সেই জিনিসগুলোকে একীভূত করতে পারে যা আমরা শেখার চেষ্টা করছি।

তিনি বলেন, হুমকি দেওয়ার মতো যেকোনো কিছুর স্বপ্ন দেখা একটি সাধারণ বিষয়। এর মানে এই নয় যে এটি খারাপ। এর অর্থ হতে পারে এটি চ্যালেঞ্জিং। তিনি বলেন, আপনি যদি গণিতের সূত্রগুলো মাথায় নিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়েন, তাহলে মাঝরাতে আপনার মনের মধ্যে সেগুলো জেগে থাকার একটা ভালো সুযোগ আছে। তাই এর থেকে বাঁচতে ভালোমত অধ্যয়ন করুন। নিজেকে প্রস্তুত করুন।
প্রফেসর এস্পি জানান, আপনি যখন ঘুমিয়ে আছেন তখনও আপনি সময় বলতে পারেন। তিনি বলেন, দুঃস্বপ্ন হল আবেগঘন স্বপ্ন। এটি একটি লক্ষণ যে আমরা ঘুমানোর সময় আমাদের অনুভূতিগুলো প্রক্রিয়া করা হচ্ছে।







