ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টেলিভিশন ও ইউটিউবজুড়ে প্রচারিত হয়েছে অসংখ্য নাটক। তবে সেসবের ভিড়ে আলাদা করে দর্শকের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে যেসব নাটক, তারমধ্যে আছে ‘ভেজা চোখ’ নাটকটিও।
ঈদের পঞ্চম দিন সন্ধ্যায় চ্যানেল আই-এ সম্প্রচারের পর নাটকটি প্রকাশিত হয় সিনেমাওয়ালার ইউটিউব চ্যানেলে। ২৭ মার্চ ইউটিউবে মুক্তির পর মাত্র চার দিনেই নাটকটি দেখা হয়েছে ৩৬ লাখ বারের বেশি! পাশাপাশি জমা পড়েছে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মন্তব্য, যার বড় একটি অংশই এসেছে নারী দর্শকদের কাছ থেকে।
জাকিয়া হোসেন তৃষার গল্পে নাটকটি নির্মাণ করেছেন মুহাম্মাদ মোস্তফা কামাল রাজ। এতে অভিনয় করেছেন খায়রুল বাসার ও তটিনী। মুক্তির আগেই নির্মাতা জানিয়েছিলেন, এটি প্রচলিত প্রেমের গল্প নয়; বরং দাম্পত্য জীবনের ভেতরের না-বলা অনুভূতি ও অন্যরকম ভালোবাসার গল্প।
নাটকটি দেখার পর দর্শকদের প্রতিক্রিয়ায়ও উঠে এসেছে সেই কথাই। বিশেষ করে নিঃসন্তান দম্পতিদের মানসিক যন্ত্রণা ও সামাজিক বাস্তবতাকে যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে, তা গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে দর্শকদের।
রানা নামের এক দর্শক লিখেছেন, “এ বছর ঈদের নাটকগুলোর মধ্যে এটি আমার দেখা অন্যতম সেরা। সত্যিই অসাধারণ।” একজন নারী দর্শক নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে লিখেছেন, “নাটকটা দেখে এত কান্না করেছি! ইনফার্টিলিটি—এই কষ্ট সবাই বুঝবে না। আমার জীবনেও যেন এমন অলৌকিক কিছু ঘটে।”
লিজা নামের আরেকজন লিখেছেন, “১৩ বছর এই কষ্ট সহ্য করেছি। আলহামদুলিল্লাহ, এখন আমার মেয়ের বয়স ২.৫ বছর।” সাদিয়া লিখেছেন, “আমি ৯ মাসের প্রেগন্যান্ট, তারপরও নাটকটা দেখে কেঁদেছি অনেক।”
আরেকজন নারী দর্শক বলেন, “আমার একটি মেয়ে আছে, দ্বিতীয় সন্তান হয়নি। কিন্তু যাদের একেবারেই সন্তান নেই, তারা কত কষ্টে থাকে- এই নাটকটা সেটা বুঝিয়েছে।”
মুজিবুল্লাহ নামের এক দর্শক লিখেছেন, “বিয়ে করেছি ৬ বছর, এখনো বাবা হতে পারিনি। নাটকটা দেখে নিজের আর স্ত্রীর কষ্ট নতুন করে অনুভব করলাম।” জুবেল লিখেছেন, “এই নাটক দেখে চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি।” প্রশান্তের ভাষায়, “যখন নাটক জীবনের সঙ্গে মিলে যায়, তখন চোখের পাতা ভিজে যায়।”
ফাহিমা আক্তার লিখেছেন, “নাটকটা সহজ হলেও বাস্তবতা অনেক কঠিন। স্বামী-স্ত্রী মিলে দেখতে গিয়ে আমরা দুজনই কেঁদে ফেলেছি। তবে আলহামদুলিল্লাহ, স্বামীর পূর্ণ সমর্থন আছে।”
দর্শকদের এমন আবেগঘন প্রতিক্রিয়াই প্রমাণ করে, শুধু বিনোদন নয়- বাস্তব জীবনের গভীর অনুভূতিও ছুঁয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে ‘ভেজা চোখ’।








