ঢাকা–৯ আসনে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা। ‘ফুটবল’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা এই প্রার্থী গ্যাস, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং এমপির জবাবদিহিতাকে ইশতেহারের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেন।
শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) তিনি এই ইশতেহার ঘোষণা নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করেন।
ইশতেহারে ডা. তাসনিম জারা বলেন, ঢাকা–৯ এলাকার বাসিন্দারা গুলশান-বনানীর মতোই কর ও বিল পরিশোধ করলেও দীর্ঘদিন ধরে মানসম্মত নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত। তিনি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্র এই এলাকাকে কেবল রাজস্ব আদায়ের উৎস হিসেবে দেখছে, কিন্তু সেবা প্রদানে রয়েছে চরম অবহেলা।
গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে তিনি ‘সেবা না দিলে বিল নয়’ নীতির কথা তুলে ধরে বলেন, গ্যাস সরবরাহে ব্যর্থ হলে বিল আদায় বন্ধ করতে সংসদে আইন প্রস্তাব আনার উদ্যোগ নেবেন। একই সঙ্গে পাইপলাইন গ্যাসের সংকট মোকাবিলায় ন্যায্য দামে এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত ও সিন্ডিকেট ভাঙার অঙ্গীকার করেন তিনি।
এছাড়া জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, নিয়মিত নর্দমা পরিষ্কার এবং রাস্তা কাটার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার বাধ্যবাধকতার কথা বলেন।
ঢাকা–৯ এলাকায় জনসংখ্যার তুলনায় হাসপাতাল সংকটের কথা তুলে ধরে ডা. তাসনিম জারা বলেন, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে। তিনি হাসপাতালটিতে জনবল ও আধুনিক যন্ত্রপাতি বাড়ানোর দাবি জানান। পাশাপাশি পাড়াভিত্তিক কমিউনিটি ক্লিনিককে ‘মিনি হাসপাতাল’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে বছরজুড়ে কার্যকর একটি স্থায়ী মশা নিধন টাস্কফোর্স গঠনের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
ইশতেহারে তিনি বলেন, সন্ধ্যার পর এলাকায় নারীদের চলাচল অনিরাপদ হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় স্কুল, কলেজ ও কর্মস্থলকেন্দ্রিক সড়কে সিসি ক্যামেরা ও পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা নিশ্চিত করার ঘোষণা দেন। মাদকবিরোধী অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি জানান, মাদকাসক্তদের চিকিৎসা দেওয়া হলেও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষা খাতে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ডা. তাসনিম জারা বলেন, স্কুল ভর্তিতে কোনো ধরনের এমপি কোটা বা সুপারিশ থাকবে না। তিনি ভর্তি বাণিজ্য বন্ধের অঙ্গীকার করেন। এছাড়া স্কুলগুলোতে আধুনিক বিজ্ঞান ল্যাব, লাইব্রেরি, কোডিং ও ভাষা শেখার ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন।
তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ‘স্টার্ট-আপ ঢাকা–৯’ নামে একটি সিড ফান্ড গঠনের কথা বলেন তিনি। জামানত ছাড়া সহজ শর্তে ঋণপ্রাপ্তিতে ব্যাংকগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টির আশ্বাস দেন। কর্মজীবী নারীদের জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে কমিউনিটি ডে-কেয়ার সেন্টার চালুর পরিকল্পনাও তুলে ধরেন তিনি।
ডা. তাসনিম জারা বলেন, নির্বাচিত হলে এক মাসের মধ্যে এলাকায় স্থায়ী কার্যালয় স্থাপন করা হবে। সেখানে নাগরিকদের অভিযোগ গ্রহণ ও অগ্রগতি জানাতে ডিজিটাল ওপেন ড্যাশবোর্ড চালু করা হবে। তিনি বলেন, এমপি যেন জনগণের কাছে সহজলভ্য থাকেন এটাই তার লক্ষ্য।
ইশতেহার ঘোষণার শেষে ডা. তাসনিম জারা বলেন, তিনি পেশাদার রাজনীতিবিদ নন এবং স্বচ্ছ রাজনীতির সুযোগ তৈরি হওয়ায় নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। ঢাকা–৯ এলাকার নাগরিক অধিকার আদায় ও সেবা নিশ্চিত করতে তিনি ভোটারদের ‘ফুটবল’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।


