আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পাবনার ঈশ্বরদী ও সুজানগরে বিএনপির বিবাদমান দুই গ্রুপের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এতে সুজানগরে সংঘর্ষে এক গৃহকর্মী নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন।
অপরদিকে ঈশ্বরদীতে দিনভর বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, গোলাগুলি, অফিস ভাংচুর ও মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশসহ উভয় পক্ষের কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন।
সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে ঈশ্বরদী শহরের রেলগেট এবং পোস্ট অফিস মোড়সহ আশপাশের এলাকায় পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব মেহেদী হাসানের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়।
মেহেদী হাসান সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে ধানের শিষের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে নির্বাচন করা বহিষ্কৃত জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারন সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুর ভাই।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় নেতাকর্মীদের মারধর, অফিস ভাঙচুর, লুটপাটসহ নানা অভিযোগে এনে দুই গ্রুপের পক্ষ থেকে সকালে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। পরে দুই গ্রুপের লোকজন শহরের বিক্ষোভ মিছিল বের করলে এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করলেও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এ সময় কয়েক রাউন্ড গুলির ঘটনাও ঘটে। পুরো শহর রনক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ এবং সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঘটনার পর শহরজুড়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা রয়েছে।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, সংঘর্ষ নয়, দলের বহিষ্কৃত নেতা বালু ও মাদক সন্ত্রাসীর নেতৃত্বে তার অফিস এবং সমর্থকদের অন্তত ত্রিশটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও কয়েকটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়।
ঈশ্বরদীর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিনুজ্জামান বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। উভয়পক্ষের ছোঁড়া ইট-পাটকেলের আঘাতে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
এদিকে সুজানগরে স্থানীয় অধিপত্য নিয়ে বিএনপি সমর্থিত বিবদমান দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয়েছে। এসময় গুলিতে চায়না খাতুন নামের এক গৃহকর্মী নিহত এবং অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
সোমবার সকালে উপজেলার ভিটবিলা পশ্চিমপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত গৃহবধু ওই গ্রামের শুকুর আলীর স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে হাটখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাফিউল ইসলাম রাজা গ্রুপের সাথে মানিকহাট ইউনিয়নের ভিটবিলা গ্রামের বিএনপি সমর্থক ইসলাম প্রামাণিক গ্রুপের বিরোধ চলছিল।
রোববার দিবাগত রাতে ওই দুই পক্ষের ছেলেদের মধ্যে মারামারি হয়। এরই জেরে সোমবার সকালে ইসলাম প্রামানিক গ্রুপের লোকজন লাঠি সোটা নিয়ে এলাকায় জড়ো হচ্ছিল। এমন সময় রাজা গ্রুপের লোকজন লাঠি সোটা অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে তাদের ওপরে হামলা চালিয়ে গুলিবর্ষণ ও বাড়ি ভাঙচুর করে। এসময় গুলিতে গৃহকর্মী চায়না খাতুন ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহত ১০ জনকে উদ্ধার করে সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সুজানগর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সাদিক আহমেদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।








