রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির মহাসমাবেশ চলাকালে নিহত যুবক শামীম মিয়া যুবদল কর্মী নন বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
শামীম একজন ডাক্তারের গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন বলে জানিয়েছেন ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. ফারুক হোসেন।
রোববার (২৯ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে নিহতের বাবা ইউসুফ মিয়ার বরাতে এ তথ্য জানান ডিসি মো. ফারুক হোসেন।
তিনি বলেন, শনিবার বিকেলে পুলিশের ওপর বিএনপি নেতাকর্মীদের আক্রমণের সময় শামীম পুলিশ হাসপাতালের সামনের পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন। এসময় নিহত শামীম স্ট্রোক করে রাস্তায় পড়ে যান। তখন পুলিশের ওপর আক্রমণ করতে আসা বিএনপির নেতাকর্মীদের পদতলে পিষ্ট হয়ে তিনি রাস্তায় পড়ে থাকেন। সেখান থেকে কয়েকজন তাকে উদ্ধার করে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে (সিপিএইচ) নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের পরিচালক পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক মো. রেজাউল হায়দার জানান, নিহত যুবকের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
রোববার (২৯ অক্টেবর) দুপুরে শামীম মিয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং হেলথ অ্যান্ড হোপ স্পেশালাইজড হাসপাতালের পরিচালক ডা. লেলিন চৌধুরী চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: ২০১১ সাল থেকে শামীম আমার ব্যক্তিগত গাড়ির চালক ছিলেন। মুগদা মানিকনগরের ৭৭ নম্বর বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। শামীমের বাবার নাম ইউসুফ মিয়া।
মুগদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মজিদ চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: শামীমের বর্তমান ঠিকানায় গিয়ে পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিনি কোনদিন কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।
ডিএমপি জানায়, শনিবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানীতে মহাসমাবেশ করার অনুমতি চায় বিএনপি। ডিএমপি নয়াপল্টনের বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শর্তসাপেক্ষে সমাবেশ করার অনুমতি দেয়। রাজধানীতে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অনুমতি নিয়েও নয়াপল্টনে মহাসমাবেশে আসা দলটির নেতাকর্মীরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
বিএনপির উচ্ছৃঙ্খল নেতাকর্মীরা দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ওপর বৃষ্টির মতো ইট-পাটকেল ছুড়েছে, লাঠি দিয়ে পিটিয়েছে, ককটেল ও গুলতি মেরেছে। একজন পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করেছে। শতাধিক পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তারা দেয়াল টপকে প্রধান বিচারপতির বাসভবনে প্রবেশ করে এবং সেখানেও তাণ্ডব চালায়। কাকরাইল পুলিশ বক্সে আগুন দেয়। ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) ভবনে রাখা গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে ও পুলিশের ব্যবহৃত যানবাহন ভাঙচুর করে। এছাড়া কয়েকটি সরকারি স্থাপনায় আগুন দেওয়া হয়।
ডিএমপি আরও জানায়, এছাড়াও বিএনপির নেতাকর্মীরা পুলিশের ওপর হামলা করেই ক্ষান্ত হয়নি। তারা রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সসহ মোট ২৬টি গাড়ি আগুন দিয়ে পুড়িয়েছে। পুলিশের ছোট-বড় স্থাপনায় আগুন দিয়েছে। গতকাল বিএনপির নেতা-কর্মীরা ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় প্রায় শতাধিক গাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।








