দেশদ্রোহীতার অভিযোগে দেশ ছাড়ার চিন্তা করছেন সার্বিয়ার টেনিস কিংবদন্তি নোভাক জোকোভিচ। দেশটিতে সরকার বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে থাকায় জোকোকে দেশদ্রোহী বলছে সরকার পক্ষ।
সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার ভুসিচের সরকারের দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলনে নেমেছে দেশটির ছাত্র-জনতা। ২০২৪ সালের নভেম্বরে একটি রেল স্টেশনের ছাদ ধসে ১৬ জনের মৃত্যুর পর থেকে সার্বিয়ার সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়। এখনও চলছে আন্দোলন, যার পাশে দাঁড়িয়েছেন ২৪টি গ্র্যান্ড স্লামজয়ী জোকোভিচ।

সরকার পক্ষের সার্বিয়ান গণমাধ্যমগুলো জোকোভিচকে বলছে, তিনি অন্ধকারের হয়ে কাজ করছেন, যা সার্বিয়ার প্রশাসন বিরোধী। তাদের দাবি, জোকো পশ্চিমাবিশ্বের পক্ষে কাজ করেন।
গণমাধ্যমে খবর, জোকোর মৃত্যুর হুমকি থাকলেও তাকে মেরে ফেলা কখনও রাজনৈতিকভাবে লাভজনক হবে না। ছাত্রদের দাবি, সার্বিয়ার ইতিহাসের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় জোকোভিচ এবং ছাত্ররা তাকে সংসদীয় নির্বাচনে বিরোধী দলের প্রার্থী হিসেবে দেখতে চায়। ভুসিচের বিরুদ্ধে জোকোকে দেখতে চায় ছাত্রজনতা। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশটিতে নির্বাচন দেয়াও সম্ভব নয়।

সার্বিয়ান গণমাধ্যমগুলো প্রেসিডেন্ট ভুসিচের পক্ষেই বলছে। তাদের মতে, প্রেসিডেন্ট চারদিক থেকে শত্রুদ্বারা ঘেরাও, তাদের মধ্যে সর্বশেষ শত্রু হলেন জোকোভিচ। গণমাধ্যমগুলো তাকে দেশদ্রোহী বলেছে। জোকোর খেলার কোন সংবাদ দেশটিতে প্রচার করা হচ্ছে না। তাকে সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করছে সার্বিয়ান গণমাধ্যম। জোকো একজন হিরো থেকে শত্রুতে পরিণত হয়েছেন, এমন খবর পরিবেশিত হচ্ছে।
জোকো আন্দোলনে সরাসরি ছাত্রদের পক্ষ নিয়ে বলেছেন, ‘আমরা একটা গৃহযুদ্ধের কিনারায় আছি। সার্বিয়ার মানুষ আগে খেলা নিয়ে আবগেপ্রবণ ছিল, এখন তারা খেলার খবরটা পর্যন্ত রাখতে পারছে না। দেশের পরিস্থিতি বেশি ভালো না।’

‘সার্বিয়াতে ছাত্রদের উপর হামলা এটা আমাদের সমাজের সবচেয়ে জঘণ্যতম কাজ। আমি আমার পরিবারসহ গ্রিসে চলে যাবো। তারা অনেক বন্ধুসুলভ এবং ওনেক বড় একটি দেশ।’








