আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস ও জাতীয় প্রবাসী দিবস ২০২৫ উপলক্ষে মালদ্বীপের বাংলাদেশ হাইকমিশনের উদ্যোগে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন।
অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা করেন হাইকমিশনের কনস্যুলার সহকারী এবাদ উল্লাহ। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন হাফেজ মো. মাসুম বিল্লাহ্। এরপর স্বাগত বক্তব্য রাখেন হাইকমিশনের কাউন্সিলর মো. সোহেল পারভেজ। তিনি তার বক্তব্যে বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে প্রবাসী বাংলাদেশীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান তুলে ধরেন।
আলোচনা সভার এক পর্যায়ে মালদ্বীপে প্রবাসীদের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার স্বীকৃতি স্বরূপ মালদ্বীপ রেড ক্রিসেন্ট ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-কে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
মালদ্বীপ রেড ক্রিসেন্টের পক্ষে সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করেন সংস্থাটির ভাইস প্রেসিডেন্ট হুদ ইব্রাহিম এবং ট্রেজারার ইয়াশা শরিফ। আইওএম -এর পক্ষে সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করেন সংস্থাটির রিপ্রেজেনটেটিভ উরাইবা আসিফ।
এছাড়াও দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সাথে বাংলাদেশী শ্রমিকদের নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের মালিক হিসেবে ইসহাক মুসাকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
এছাড়াও প্রবাসী সাংবাদিকতায় অসামান্য অবদানের জন্য প্রশংসাপত্র প্রদান করা হয় প্রবাসী সাংবাদিক এমরান হোসেন এবং মো. ওমর ফারুক খন্দকারকে।
পরবর্তীতে প্রধান উপদেষ্টা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এবং স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা কর্তৃক প্রেরিত বাণী পাঠ করেন যথাক্রমে হাইকমিশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শিরিন ফারজানা, কল্যাণ সহকারী আল-মামুন পাঠান, কনস্যুলার সহকারী ময়নাল হোসেন এবং হাইকমিশনের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান।
অনুষ্ঠানের এ পর্যায়ে বাংলাদেশ–মালদ্বীপ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উপর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র (ডকুমেন্টারি ভিডিও) প্রদর্শন করা হয়। এরপর হাইকমিশনার কেক কাটেন।
প্রবাসী বাংলাদেশী কমিউনিটির পক্ষ থেকে বক্তব্য প্রদান করেন আহমেদ মোত্তাকি, মালদ্বীপ বিএনপির সভাপতি খলিলুর রহমান, সাজ্জাত হোসেন এবং আলমগীর শিকদার।
সবশেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, প্রবাসীরা বাংলাদেশের উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি। প্রবাসীদের হাড়ভাঙা পরিশ্রমে অর্জিত রেমিট্যান্সের ওপর দেশের অর্থনীতি টিকে আছে। তিনি প্রবাসীদের কল্যাণে বাংলাদেশ হাইকমিশনের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন এবং মালদ্বীপে আসার ক্ষেত্রে প্রতারণার শিকার প্রবাসীদের সহায়তায় গৃহীত পদক্ষেপসমূহের বিষয়ে আলোকপাত করেন। ভবিষ্যতে মালদ্বীপে আরও দক্ষ জনশক্তি প্রেরণের লক্ষ্যে হাইকমিশনের পরিকল্পনা ও উদ্যোগের কথাও তিনি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।
তিনি মালদ্বীপের স্থানীয় আইন-কানুন যথাযথভাবে মেনে চলার পাশাপাশি সকল বাংলাদেশিকে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ঐক্যের মাধ্যমে বসবাস করার আহ্বান জানান। সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে মান্যবর হাইকমিশনার তার বক্তব্য শেষ করেন।
পরিশেষে হাইকমিশনারের নির্দেশে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।








