দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। সেই সঙ্গে তাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন সর্বোচ্চ আদালত।
এছাড়া আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তাকে দিনাজপুরের আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে। অন্যাথায় তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত।
আপিল বিভাগের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমকে নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্যের জন্য জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে আদালত আনা অবমাননার অভিযোগের শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বিভাগ এই রায় দেন। তবে এই রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করা হবে বলে চ্যানেল আই অনলাইনকে জানান জাহাঙ্গীর আলমের আইনজীবী।
আদালতে মেয়রে বিরুদ্ধে অভিযোগের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী শাহ মনজুরুল হক। মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। আর আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন।
আপিল বিভাগের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমকে নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্যের জন্য দিনাজপুর মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে আপিল বিভাগে আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হারুন অর রশীদ, আইনজীবী মাহফুজুর রহমান রোমান, আইনজীবী মো: মনিরুজ্জামান রানা ও আইনজীবী শফিক রায়হান শাওন। এই আবেদনের পর দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমকে ২৪ আগস্ট সকাল ৯ টায় আপিল বিভাগে হাজির হতে নির্দেশ দেয়া হয়। সেই সাথে এই মেয়রের আপত্তিকর বক্তব্যের ভিডিওটি অপসারণ করতে বিটিআরসির চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেন সর্বোচ্চ আদালত।
সর্বোচ্চ আদালতের আদেশ অনুযায়ী ২৪ আগস্ট সকালে জাহাঙ্গীর আলম আপিল বিভাগে হাজির হলে তার পক্ষে তার আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল নিঃশর্ত ক্ষমা চান। সেই সাথে তারা নিঃশর্ত ক্ষমার একটি লিখিত আবেদন করেছেন বলে আদালতকে জানান। এরপর ততকালীন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন পাচ বিচারপতির আপিল বিভাগ মেয়রের নিঃশর্ত ক্ষমার আবেদন ও তার বিরুদ্ধে আসা আদালত অবমাননার অভিযোগের আবেদন শুনানির জন্য ১২ অক্টোবর দিন ধার্য করেন। সে অনুযায়ী আজ শুনানি শেষে রায় দেন সর্বোচ্চ আদালত।







