বলিউড বক্স অফিসে এখন কেবলই ‘ধুরন্ধর ২’-এর জয়গান। আদিত্য ধরের পরিচালনায় এই স্পাই-থ্রিলারটি মুক্তির দ্বিতীয় দিনেই অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলেছে। প্রথম দিনের ১০০ কোটির রেকর্ড ব্রেকিং ওপেনিংয়ের পর দ্বিতীয় দিনেও এর দাপট অব্যাহত।
রেকর্ড ভাঙা কালেকশন
ট্রেড অ্যানালিস্টদের রিপোর্ট অনুযায়ী, মাত্র দু’দিনে ভারতের বক্স অফিসে এই ছবির নেট কালেকশন ২৪০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। প্রথম দিন ( পেইড প্রিভিউ-সহ): প্রায় ১৪৫ কোটি টাকা। দ্বিতীয় দিন (শুক্রবার)ও এই ছবি আয় করেছে প্রায় ৯৭ কোটি টাকা। এই অবিশ্বাস্য আয়ের মাধ্যমে ‘ধুরন্ধর ২’ মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই হৃত্বিক রোশন ও জুনিয়র এনটিআর অভিনীত ‘ওয়ার ২’ (War 2)-এর লাইফটাইম কালেকশনকে (২৩৬ কোটি টাকা) টপকে গেল।
বিশ্বজুড়ে দাপট
শুধু ভারত নয়, বিশ্বজুড়েও এই ছবির ক্রেজ তুঙ্গে। গ্লোবাল বক্স অফিসে ছবিটির গ্রস কালেকশন ইতিমধ্যেই ৩৩০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এর মাধ্যমে এটি শাহরুখের ‘জওয়ান’ এবং আল্লু অর্জুনের ‘পুষ্পা ২’-এর মতো মেগা ব্লকবাস্টার ছবিগুলোর দু’দিনের রেকর্ডকেও চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।
কেন এই বিপুল সাফল্য? ১. রণবীর ম্যাজিক: জাসকিরত সিং রঙ্গী হিসেবে রণবীরের পারফরম্যান্স এবং তার ‘ড্যাশিং’ লুক দর্শকদের পাগল করে দিয়েছে। ২. দেশভক্তির টান: ছবির টানটান চিত্রনাট্য এবং আন্ডারওয়ার্ল্ড দমনের গল্প দর্শকদের মধ্যে এক অদ্ভুত উন্মাদনা তৈরি করেছে। ৩. উইকএন্ড ফ্যাক্টর: সামনেই শনি ও রবিবার এবং ইদের আমেজ থাকায় ট্রেড বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন প্রথম সপ্তাহান্তেই ছবিটি ৫০০ কোটির গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলবে।
রণবীর সিং এবং পরিচালক আদিত্য ধরের যুগলবন্দিতে ২০২৬ সালের অন্যতম আলোচিত ছবি হলো ‘ধুরন্ধর ২: দ্য রিভেঞ্জ’। এটি মূলত ২০২৫ সালের ব্লকবাস্টার ছবি ‘ধুরন্ধর’-এর সিক্যুয়েল। এটি একটি হাই-ভোল্টেজ স্পাই-থ্রিলার। ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র জাসকিরাত সিং রঙ্গী (রণবীর সিং), যিনি করাচির অপরাধ জগতের ডন ‘হামজা আলী মাজারি’ সেজে পাকিস্তানের গভীরে অনুপ্রবেশ করেন। ভারতের বিরুদ্ধে হওয়া বিভিন্ন জঙ্গি হামলার প্রতিশোধ এবং পাকিস্তানের অন্ধকার জগতের জাল ছিঁড়ে ফেলাই তার মূল লক্ষ্য।
রণবীর সিং ছাড়াও এই ছবিতে আর মাধবন (অজয় সান্যাল চরিত্রে), সঞ্জয় দত্ত, অর্জুন রামপাল এবং অক্ষয় খান্না-র মতো শক্তিশালী অভিনেতারা রয়েছেন। প্রায় ৪ ঘণ্টার এই দীর্ঘ ছবিটি তার টানটান উত্তেজনা, দেশভক্তির আবেগ এবং দুর্দান্ত অ্যাকশন সিক্যুয়েন্সের জন্য দর্শকদের প্রশংসা কুড়াচ্ছে। করাচির ‘লিয়ারি’ অঞ্চলের গ্যাং ওয়ার এবং ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে পরিচালক আদিত্য ধর অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।


