বিশ্বকাপের নিজেদের প্রথম চার ম্যাচের কোনো ম্যাচেই হারেনি ভারত ও নিউজিল্যান্ড। পঞ্চম ম্যাচে অপরাজিত প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি দেখায় অবশ্য ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে স্বাগতিক ভারত। বিরাট কোহলির ৯৫ রানের দুর্দান্ত ইনিংসে পঞ্চম ম্যাচেও জয় পেল রোহিত শর্মার দল। টানা চার জয়ের পর অবশেষে হারের স্বাদ পেল নিউজিল্যান্ড।
সেঞ্চুরির কাছেই গিয়েছিলেন কোহলি। সেঞ্চুরিটা পূর্ণ করতে পারলেই ভারতের কিংবদন্তি ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকারের পাশে নাম লেখাতেন পারতেন কোহলি। একদিনের ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ৪৯ সেঞ্চুরি শচীনের। কোহলি সেঞ্চুরি ৪৮টি। কিউই বধ মিশনে ৯৫ রানে কোহলির ফেরা অবশ্য শচীনকে ছোঁয়ার অপেক্ষা বাড়লো কোহলির।
ধর্মশালার হিমাচল প্রদেশ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে কিউইদের ৪ উইকেটে হারিয়েছে ভারত। টসে হেরে আগে ব্যাটে নেমে নির্ধারিত ওভার শেষে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২৭৩ রান সংগ্রহ করে নিউজিল্যান্ড। জবাবে নেমে ৪৮ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে নোঙর করে স্বাগতিক দল।
কিউইদের রান তাড়া নেমে উড়ন্ত শুরু পায় ভারত। উদ্বোধনী জুটিতে ৭১ রান তোলেন রোহিত শর্মা ও শুভমন গিল। ১২তম ওভারের প্রথম বলে ৪০ বলে ৪৬ রান করে লোকি ফার্গুসনের শিকার হয়ে ফেরেন রোহিত। এক ওভার পরেই ফার্গুসনের দ্বিতীয় শিকার হন গিল। ৩১ বলে ২৬ রান করেন এই ওপেনার।
ফেরার আগে অবশ্য একটি রেকর্ডও গড়েছেন গিল। ওয়ানডে ক্রিকেটে সবচেয়ে দ্রুততম ২ হাজার রানের মালিক এখন এই ওপেনার। তালিকায় তিনি পেছনে ফেলেছেন পাকিস্তানের জহির আব্বাস ও দক্ষিণ আফ্রিকার হাশিম আমলাদেরও।
ওডিআই ক্যারিয়ারের ৩৮তম ম্যাচে এসে ২ হাজার রান পূর্ণ করেছেন শুভমান গিল। তারচেয়ে ২ ইনিংস বেশি খেলে ২ হাজারি ক্লাবে প্রবেশ করেছিলেন হাশিম আমলা। প্রোটিয়া কিংবদন্তি খেলেছিলেন ৪০ ইনিংস। জহির আব্বাস, কেভিন পিটারসেন, বাবর আজম, রাসি ভ্যান ডার ডুসেন তারা প্রত্যেকেই নিজেদের ৪৫তম ইনিংসে দুই হাজার রান পূর্ণ করেছিলেন।
গিল ফেরার পর শ্রেয়াস আয়ারকে নিয়ে হাল ধরেন কোহলি। ২২ ওভারের তৃতীয় বলে দলীয় ১২৮ রানে ট্রেন্ট বোল্টের শিকার হন আয়ার। ২৯ বলে ৩৩ রান করেন তিনি।
এরপর লোকেশ রাহুলকে নিয়ে ৫৪ রানের জুটি গড়েন কোহলি। ৩৩তম ওভারের প্রথম বলে দলীয় ১৮২ রানে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন রাহুল। আম্পায়ার আউট না দিলেও রিভিউতে স্যান্টনারের শিকার হন ভারতীয় উইকেটরক্ষক ব্যাটার। ৩৫ বলে ২৭ রান করেন।
৩৩ ওভারের শেষ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন কোহলি। ৬০ বলে ফিফটি ছোঁয়া ইনিংসে ছিল একটি ছক্কা ও পাঁচটি চারের মার। পরের ওভারেই কোহলির ভুলে রান আউট হয়ে ফিরে যান ৪ বলে দুই রান করা সূর্যকুমার যাদব।
বাংলাদেশের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন কোহলি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও ঠিক তেমনই সুযোগ গড়েছিলেন তিনি। তবে এবার ব্যর্থ হয়েছেন। ম্যাট হেনরি বল উড়িয়ে মারতে গিয়ে লংঅনে ধরা পড়েন গ্লেন ফিলিপস এর হাতে। ১০৪ বলে আটটি চার ও দুটি ছক্কায় ৯৫ রান করেন কোহলি।
এরপর মোহাম্মদ শামিকে নিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন রবীন্দ্র জাদেজা। ৪৪ বলে ৩৯ রান করেন জাদেজা। আর শামি করেছেন ১ বলে ১ রান।
নিউজিল্যান্ডের হয়ে লোকি ফার্গুসন নেন দুটি উইকেট। ট্রেন্ট বোল্ট, ম্যাট হেনরি ও মিচেল স্যান্টনার নেন একটি করে উইকেট।
এর আগে কিউইদের ব্যাটে পাঠিয়ে বল হাতে কিপ্টে ছিলেন ভারতীয় বোলাররা। চতুর্থ ওভারে ইনফর্ম ব্যাটার ডেভন কনওয়েকে প্রথম সাজঘরের পথ দেখান মোহাম্মদ সিরাজ। ৯ বল খেলে কোনো রান যোগ করতে পারেননি এ বাঁহাতি।
এবারের বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা পেসার মোহাম্মদ শামি প্রথম বল করতে আসেন ইনিংসের নবম ওভারে। প্রথম বলেই বোল্ড করেন নিউজিল্যান্ডের আরেক ওপেনার উইল ইয়ংকে। ২৭ বলে ১৭ রানের ইনিংস খেলেন এ ডানহাতি।
চতুর্থ উইকেট জুটিতে বাঁহাতি রাচিন রবীন্দ্র ও ডানহাতি ড্যারিল মিচেল নিউজিল্যান্ডকে ম্যাচে ফেরান। দুজনে মিলে গড়েন ১৫২ বলে ১৫৯ রানের জুটি। ২৩তম ওভারে ফিফটি তুলে নেন রবীন্দ্র। এরপর ৭৫ রানে শামির স্বীকারে হন এ বাঁহাতি।
রাচীন রবীন্দ্র আউট হলেও থেমে যাননি ড্যারিল মিচেল, ফিফটির দেখা পেয়ে যান ২৭তম ওভারে। পরে সেটিকে সেঞ্চুরিতে পরিণত করেন। তার ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরি। ইনিংসের শেষ ওভারে শামির বলে ক্যাচ আউট হন, খেলেন ১২৭ বলে ১৩০ রানের সর্বোচ্চ ইনিংস।
ভারতীয় বোলারদের মধ্যে মোহাম্মদ শামি ১০ ওভারে ৫৪ রানে ৫টি এবং কুলদীপ যাদব ৭৩ রানে ২টি উইকেট নেন। একটি করে উইকেট নেন জাসপ্রীত বুমরাহ এবং মোহাম্মদ সিরাজ।








