আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে গুমের মাধ্যমে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা দুটি পৃথক মামলার একটিতে অভিযুক্ত হয়েছেন দেশের গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের (ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স) সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তারা।
বুধবার ৮ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ অভিযোগ আমলে নিয়ে আসামীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন। প্রসিকিউশন পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন।
এ মামলায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে তৎকালীন সময়ে গুমের মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়, যেখানে ডিজিএফআইয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) সাইফুল আবেদিন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) তাবরেজ শামস চৌধুরী এবং মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক। এছাড়া সংস্থার সাবেক পরিচালক হিসেবে মেজর জেনারেল তৌহিদুল ইসলাম, মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, মেজর জেনারেল কবির আহাম্মদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভীর মাজহার সিদ্দিকী ও লে. কর্নেল (অব.) মখসুরুল হককে আসামি করা হয়েছে।
এ মামলায় শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষা বিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিককেও অভিযুক্ত করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল আসামীদের গ্রেফতার করে আগামী ২২ অক্টোবর আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে আওয়ামী লীগ সরকার, এর দলীয় ক্যাডার ও প্রশাসনের কিছু অংশ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও গুমসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে বর্তমানে দুটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার কার্যক্রম চলছে।








