দীর্ঘদিনের সংকট ও আস্থার চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে আবারও ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে দেশের ব্যাংক খাত। শেষ নভেম্বরে (২০২৫) ব্যাংকগুলোতে আমানত বেড়েছে প্রায় ২৯ হাজার কোটি টাকা, যার ফলে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি আবার দুই অঙ্কে পৌঁছেছে। একই সময়ে, মানুষের হাতে থাকা নগদ অর্থ কমেছে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা এবং এক বছরের ব্যবধানে মোট আমানত বেড়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আমানতে গতি আসার প্রধান কারণগুলো হলো মূল্যস্ফীতির কিছুটা নিয়ন্ত্রণ, উচ্চ সুদের হার, এবং মানুষের আস্থা ফিরতে শুরু করা। অতিরিক্ত নগদ ব্যয়ের চাপ কমেছে এবং অনেক গ্রাহক নগদ অর্থ ব্যাংকে রাখছেন। আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, কিছু শক্তিশালী ব্যাংকগুলোর আর্থিক সূচক ভালো হওয়া এবং প্রবাসী আয়ের প্রবাহও আমানত বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের তুলনায় নভেম্বরে তপশিলি ব্যাংকগুলোর আমানত বেড়ে ১৯ লাখ ৫৩ হাজার ২৯৫ কোটি টাকা হয়েছে। আগের বছরের নভেম্বরে এই পরিমাণ ছিল ১৭ লাখ ৬২ হাজার ৮৫৫ কোটি টাকা, যার ফলে এক বছরে আমানত বেড়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা (১০ দশমিক ৮০%)।
বিগত সরকারের আমলে ব্যাংক খাতে দুর্নীতি এবং অনিয়মের কারণে গ্রাহকদের মধ্যে আস্থার সংকট ছিল, কিন্তু বর্তমান সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সংস্কারমূলক পদক্ষেপের ফলে সেই সংকট কাটিয়ে আমানত বৃদ্ধি পেয়েছে।








