মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল পরিচালিত সিরিয়াল ‘এটা আমাদেরই গল্প’ দর্শকদের কাছে তুমুল জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সপ্তাহে নতুন দুটি করে পর্ব প্রচারে আসছে। তবে সিরিয়ালটিতে দর্শকরা এতটাই বুঁদ হয়ে উঠেছেন যে, দৈনিক একটি নতুন পর্ব দেখতে চাইছেন!
সপ্তাহের প্রতি মঙ্গলবার ও বুধবার রাত সাড়ে নয়টায় চ্যানেল আই-এর পর্দায় এবং বুধ ও বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় সিনেমাওয়ালা ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পাচ্ছে ‘এটা আমাদেরই গল্প’র নতুন পর্ব। অনলাইনে সিরিয়ালটির প্রতিটি পর্ব দেখতে হুমড়ি খেয়ে দেখছে দর্শক।
পরিবারের সুখ-দুঃখ, আবেগ-অনূভুতি টানাপড়েন নিয়ে নির্মিত এই সিরিয়ালে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন অভিনেত্রী দীপা খন্দকার। সম্প্রতি এই নাটকটি নিয়ে কথা বলতে তিনি এসেছিলেন চ্যানেল আইয়ে।
‘এটা আমাদেরই গল্প’-তে অভিনয় করে অবিশ্বাস্য রেসপন্স পাচ্ছেন তিনি। দীপা খন্দকার বলেন,“আমাদের জেনারেশনের বেশীর ভাগেরই এখন কাজ নাই বললেই চলে। আমাদের একটা ট্রানজিশন পিরিয়ড চলছে। স্বভাবতই আমরা এখন আর নায়িকার চরিত্র করতে পারি না, আমাদের একটু ডিফারেন্ট চরিত্র করতে হয়। আর সেই ধরনের ক্যারেক্টারও সব নাটকে থাকে না। কিন্তু এই নাটকটি করার পর সেদিন একটি বিয়েতে গেছি, আমাকে রীতিমত মানুষ জড়িয়ে ধরে বিশেষ করে বয়স্ক মানুষরা এতো প্রশংসা করলো- মনটা ভরে যায় তখন।”
তিনি জানান, বাসার বাইরে অন্য কোথাও পাব্লিক গেদারিংয়ে গেলেই মানুষের প্রশংসা পাচ্ছেন। শপিং মল থেকে অন্য শহর কিংবা কোথাও ঘুরতে গেলেও মানুষ তার ভালো লাগা জানাতে এসে কথা বলেন। অনেকে তাকে একটু ছুঁয়ে দেখতে চান বলেও জানান দীপা। এমন ভালো লাগার অনুভূতির জন্য ‘এটা আমাদেরই গল্প’র সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে কৃতজ্ঞতা জানান অভিনেত্রী।
তারআগে বেশকিছু দিন নাটকে অনিয়মিত ছিলেন দীপা খন্দকার। তার কারণ জানিয়ে দীপা খন্দকার জানান, “যে ধরনের সংলাপে মানুষ অস্বস্তি বোধ করে, পরিবারের সঙ্গে বসে সংলাপগুলোর জন্য যে নাটকগুলো দেখা যায় না; সেগুলো দেখতে দেখতে বিরক্ত হচ্ছিলাম, হাঁপিয়ে যাচ্ছিলাম বলা যায়। ওই ধরনের নাটক থেকে অনেক সময় প্রস্তাবও পেয়েছি, কিন্তু আমার মনে হয়েছে এ ধরনের কাজ আমি করতে চাই না।”
এ বিষয়ে দীপা খন্দকার আরেকটু বিশদে বলেন,“সংলাপে ‘গালিগালাজ’ বা ‘বাজে শব্দ’র ব্যবহার- আমার অস্বস্তি বোধ হয়। এগুলো আমি করতে চাই না। অনেকে মনে করে, এগুলো জীবনের অংশ, ঠিকাছে। কিন্তু আমি এরকম জীবনের অংশিদার হতে চাই না। কারণ ব্যক্তিগত জীবনে আমি কখনো গালি দিই না, বা দিতে পছন্দ করি না। আবার সামনে কেউ দিলেও সেটাও পছন্দ করি না। এমনকি ‘বাজে শব্দ’ ব্যবহার করে অনেকে ফান করেন, সেটাও আমি করতে পছন্দ করি না। এটা আমার ব্যক্তিগত চয়েস।”
এরই সূত্র ধরে অভিনেত্রী বলেন,“নাটকেও যখন সেগুলো আসে, তখন আমার কাছে মনে হয়েছে, এরকম কিছু আমি চাই না। তখনই মোস্তফা কামাল রাজের সাথে কাজ করা হলো, সেটা ছিলো ১ ঘণ্টার একটি নাটক। ওটা খুবই মিষ্টি একটা গল্প ছিলো, অনুতপ্ত। তখনই রাজ আলোচনা করছিলো, পজিটিভ ভাইব নিয়ে একটি সিরিয়াল করতে চায়। যেখানে ফ্যামিলি ভ্যালুকে গুরত্ব দেয়া হবে। আমার কাছে তার আইডিয়া শুনেই ভালো লাগলো। তারপর আমরা নাটকটি করলাম, দুটি অ্যাপিসোড প্রচার হতেই এতো রেসপন্স পেলাম, সবাই এতো প্রশংসা করছেন- আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না এরকম সময়ে এসে এই নাটকটি এতো রেসপন্স পাবে!”
‘এটা আমাদেরই গল্প’ করতে গিয়ে সহ-অভিনয়শিল্পীদের সাথে বন্ডিং নিয়েও কথা বলেন দীপা খন্দকার। মনিরা মিঠু থেকে এ প্রজন্মের সুনেরাহ, কেয়া পায়েল, খায়রুল বাসার এবং ইরফান সাজ্জাদের সাথে একটা পারিবারিক সম্পর্ক তৈরী হয়ে গেছে বলেও জানান তিনি।


