ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনারের মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন বাবা হত্যার বিচার চেয়েছেন। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থ প্রধানমন্ত্রী হস্তক্ষেপ কামনা করে তিনি।
আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে অবস্থিত ডিবি কার্যালয়ের সামনে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমার বাবার হত্যার বিচার চাই। আমার বাবাকে যারা হত্যা করেছে তাদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে এইটা আমি দেখতে চাই। আমরা কাউকে সন্দেহ করছি না। তবে আমার বাবাকে যারা হত্যা করেছে তাদের আমি দেখতে চাই।
ডরিন বলেন, আমি জেনেছি যে, আমার বাবাকে হত্যা করা হয়েছে। এটা শুনেই আমি ডিবি প্রধানের কাছে এসেছি। তারা এরইমধ্যে তিনজনকে ধরেছেন। আমি মামলা করব। ডিএমপি কমিশনার, ডিবি প্রধান ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। সবাই আমাকে আশ্বস্ত করেছেন। ডিবি আন্তরিকতার সঙ্গে বিষয়টি দেখছেন।
গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করে ডরিন বলেন: আমি আমার বাবা হত্যার বিচার চাই। আপনারা এই বিষয়ে আমাকে সহযোগিতা করুন। আপনারা নিউজ করুন অনুসন্ধান করুন। আপনাদের নিউজে সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি হোক। আমি যেন বিচার পাই, আমার বাবাকে কারা হত্যা করেছে, সেটা যেন জানতে পারি।
তিনি বলেন, আমার বাবাকে কারা হত্যা করেছে, কেন করেছে, এর সুষ্ঠু তদন্ত চাই। আমি এর শেষ দেখতে চাই, তারা কেন বাবাকে হত্যা করেছে? আমি যেন দেখতে পাই আমার বাবার হত্যাকারীদেরকে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝোলানো হয়েছে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে ডরিন বলেন: আজকে আমি এতিম হয়ে গেছি। আজকে আমার পড়াশোনা শেষ হয়নি। সবার পরিবার আছে, সন্তান আছে। সবাই জানেন, যার বাবা থাকে না তার কেউ থাকে না, সে এতিম হয়ে যায়। যতই কাছের আত্মীয়, আপন মানুষ থাকুক না কেন বাবা বাবাই। বাবার মতো কেউ আপন হয় না।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি অনুরোধ জানিয়ে ডরিন বলেন: আমার একটাই অনুরোধ আপনার আমার বাবার হত্যার সুষ্ঠু বিচার করুন। একটা সময় আমার বাবা ১৪টা বছর মিথ্যা মামলায় পালিয়ে থেকেছেন। তখন আমি অনেক ছোট। তখনো আমি আমার বাবাকে কাছে পাইনি। যখন একটু বুঝতে শিখে তখন আমার বাবাকে কাছে পেয়েছি। এখন আবার আমার বাবাকে হারিয়ে ফেললাম। আপনারা কেউ আমার বড় ভাই কেউ বাবার মত। আপনারা আমাকে সহযোগিতা করবেন। আমি আমার বাবার হত্যার বিচার চাই। আমি স্বচক্ষে দেখতে চাই কারা আমাকে এতিম করল কেন করল।
কারো সঙ্গে কোনো শত্রুতে ছিল কিনা জানতে চাইলে বলেন, কারো সঙ্গে ছিল কিনা আমি জানি না। এরকম কি এখনো আমি জানতে পারিনি। যাদেরকে সন্দেহ করা হচ্ছে তাদেরকে আগে ধরা হোক তাহলে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে অনেক কিছু বেরিয়ে আসবে। আমি যদি জানতাম তাহলে তো ডিবি পুলিশকে বলেই যেতাম। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনি বলেছেন চিন্তা করো না। আমি তার হস্তক্ষেপ কামনা করছি।








