ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিমকে হত্যায় খুনিরা কাট-আউট পদ্ধতি ব্যবহার করেছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।
তিনি বলেন, হত্যাকারীদের উদ্দেশ্য ছিল মরদেহ গুম করা। যাতে কোনোদিন মরদেহ খুঁজে না পাওয়া যায়।
হারুন অর রশীদ বলেন, আমরা এমপি আনোয়ারুলের হত্যায় ডিজিটাল এভিডেন্স পেয়েছি। বিভিন্ন ঘটনাস্থল আমরা পরিদর্শন করেছি। তারা যে ঠান্ডা মাথায় তাকে হত্যা করেছে এবং পৈশাচিক কায়দায় নৃশংসভাবে এই লাশটা গুম করে যাতে তার কোনদিন মরদেহের কোনো অংশ না পাওয়া যায়। সে জন্য তারা জিহাদ ও সিয়ামকে ব্যবহার করেছে। পাশাপাশি খুনিরা কাট-আউট পদ্ধতি ব্যবহার করেছে।
তিনি বলেন, তারা কাট-আউট পদ্ধতি ব্যবহার করেছে যাতে কারো তথ্য কারো কাছে না থাকে। যখন বাংলাদেশের কোনো লোক তাকে খুঁজে পাচ্ছে না, আমরা তার নিখোঁজ খবর পেয়েছি। তখন কিন্তু ভারতীয় পুলিশ তার তথ্য পাচ্ছে না। সেই মুহূর্তে আমরা বাংলাদেশে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছি। এর মধ্যে মূল কিলার শিমুল ভুঁইয়াসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করি। তারা কিন্তু তিনজনই আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। তারা আদালতে বলেছে কীভাবে হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছে। তারা আমাদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও দিয়েছে।

ডিবি সূত্র বলছে, সংসদ সদস্য আনার হত্যায় প্রতিনিয়ত নতুন নতুন নাম আসছে। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশীদ বলেন, আমাদের তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে বিভিন্ন ধরনের তথ্য আছে। যখন যাকে প্রয়োজন মনে করবেন তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকবেন। আপনারা জানেন আমরা কাউকে হয়রানি করি না এবং কেউ অপরাধী হয়ে থাকলে তাকে পালানোর সুযোগও দেই না। আমি আগেই বলেছি, তদন্তকারী কর্মকর্তার প্রশ্নের সদুত্তর দিতে না পারলে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে বুধবার রাতে সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম হত্যাকাণ্ডের একটি ছবি পাওয়া গেছে। যেখানে মৃত এ সংসদ সদস্যকে বিবস্ত্র করে একটি চেয়ারের সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় দেখা যায়। ডিবি সূত্র জানিয়েছে, এমপি আনোয়ারুলকে হত্যার আগে রাসায়নিক ক্লোরোফর্ম দিয়ে অচেতন করে খুনিরা। এরপর তাকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়।
ছবিতে দেখা যায়, খুনিরা আনোয়ারুলের মরদেহ চেয়ারে বসিয়ে মুখ, হাত-পা বেঁধে রাখে। এছাড়াও তার গলায় ছিল লাল রঙের একটি গামছা। তার মুখ সাদা কাপড় দিয়ে বেঁধে রেখেছিল খুনিরা। কালো কাপড় দিয়ে মাথা ছিল চেয়ারের সঙ্গে বাঁধা। তার দুটি চোখ সামান্য খোলা অবস্থায় দেখা গেছে।
এরআগে বুধবার দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিমের মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন।
সেসময় সাক্ষাতের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ডরিন বলছে কেউ যেন পার না পেয়ে যায়, বিষয়টি দেখবেন। যেটি আপনার তদন্তে আসবে আমরা সেটি বিশ্বাস করি। তদন্ত যেভাবে করেছেন তাতে যেন কেউ পার না পেয়ে যায়— সেই বিষয়ে আমাদের অনুরোধ করে গেছেন।
এ বিষয়ে কোনো চাপ আছে কি না— জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কে চাপ দেবে আমাদের, কোনো চাপ নেই। সঠিক পদ্ধতিতে তদন্ত হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে আমরা বলতে পারব কার উদ্দেশ্য কী ছিল?
গত ১২ মে চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়ে নিখোঁজ হন সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম। ২২ মে কলকাতা পুলিশ জানায়, আনোয়ারুল খুন হয়েছেন। একই দিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানও জানান, আনোয়ারুল আজিমকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় একই দিন আনোয়ারুলের খোঁজ চেয়ে রাজধানীর শেরে বাংলা নগর থানায় মামলা করেন তার মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন। আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরুর পর আসতে থাকে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।
ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনার হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে এর আগে বাংলাদেশ, ভারত ও নেপাল থেকে কয়েকজনকে আটক করা হয়। এদের মধ্যে শিমুল ভুইঁয়া ওরফে শিহাব ওরফে ফজল মোহাম্মদ ভুইঁয়া ওরফে আমানুল্যাহ সাঈদ, তানভীর ভুইঁয়া ও শিলাস্তি রহমান রিমান্ড শেষে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।








