ব্যাংকগুলোর ক্রেডিট কার্ড পরিচালনা কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও গ্রাহকবান্ধব করতে নতুন গাইডলাইন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে ক্রেডিট কার্ডের ঋণসীমা বাড়ানোর পাশাপাশি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, গ্রাহক অধিকার সুরক্ষা ও বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থায় নতুন নির্দেশনা যুক্ত করা হয়েছে।
রোববার (১৫ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানান।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন ধরনের ব্যয় ও মূল্য পরিশোধে নগদ অর্থ বহনের বিকল্প হিসেবে ব্যক্তিপর্যায়ে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ফলে এ খাতে বিদ্যমান কিছু জটিলতা কমানো এবং সেবায় নতুন বৈশিষ্ট্য যুক্ত করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। এ কারণে আগের নীতিমালা হালনাগাদ করে একটি পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন জারি করা হয়েছে।
নতুন গাইডলাইনে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার, ভোক্তা অধিকার সুরক্ষা, দায়িত্বশীল ঋণ বিতরণে উৎসাহ এবং নগদবিহীন আর্থিক লেনদেনের জন্য স্বচ্ছ পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
গাইডলাইনে ক্রেডিট কার্ড কার্যক্রমের বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গাইডলাইনের প্রযোজ্যতা ও সংজ্ঞা, ক্রেডিট কার্ডের ধরন, গ্রাহকের যোগ্যতার মানদণ্ড, ক্রেডিট সীমা ও সুদের হার নির্ধারণ, কার্ড ইস্যু ও বিপণন পদ্ধতি, বিলিং ও আদায় প্রক্রিয়া, গ্রাহকের তথ্যের গোপনীয়তা ও অধিকার সুরক্ষা, বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
নতুন নির্দেশনায় ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে বিতরণযোগ্য সর্বোচ্চ ঋণসীমা বাড়ানো হয়েছে। আগে যেখানে সর্বোচ্চ ঋণসীমা ছিল ২৫ লাখ টাকা, তা বাড়িয়ে এখন ৪০ লাখ টাকা করা হয়েছে। একই সঙ্গে অনিরাপদ ঋণের সীমাও ১০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারসংক্রান্ত গ্রাহকের অভিযোগ, অনিয়ম বা জালিয়াতি, কার্ডের মাধ্যমে সংঘটিত লেনদেনের পরিশোধ ব্যবস্থায় জটিলতা এবং বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে গাইডলাইনে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।







