পরিবেশক নিয়োগ বাতিলকে কেন্দ্র করে দায়ের করা সালিশি মামলায় ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের পক্ষে চূড়ান্ত রায় দিয়েছেন আদালত। সাবেক পরিবেশক মাসুদ অ্যান্ড ব্রাদার্স এবং অগ্রণী ট্রেডিং কর্পোরেশন কর্তৃক দায়েরকৃত সালিশি বিবিধ মামলা নং ৪৩৬/২০২৫ ও ৪৩৭/২০২৫–এ অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত নং–২ পরিবেশকদের আবেদন খারিজ করে দেন।
গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত নং–২ পরিবেশকদের আবেদনে কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ বা আইনি মেরিট না পাওয়ায় মামলাগুলো খারিজ করে দিয়ে ইউনিলিভার বাংলাদেশের পক্ষে চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, পরিবেশকরা তাদের পরিবেশক নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে উক্ত সালিশি বিবিধ মামলাগুলো দায়ের করেন। একই সঙ্গে তারা বাতিল নোটিশের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা (ইনজাংশন) এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় নতুন পরিবেশক নিয়োগে আদালতের নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন।
এর আগে পরিবেশকরা আইনগতভাবে ভুল ফোরামে দুটি ঘোষণামূলক মামলা (ডিক্লারেশন স্যুট) ও দুটি অর্থ মামলা (মানি স্যুট) দায়ের করেছিলেন। তবে আইনগত গ্রহণযোগ্যতার অভাবে (মেইনটেইনেবিলিটি) আদালত সেসব ঘোষণামূলক মামলা খারিজ করে দেন। প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যর্থ হওয়ার পরই পরিবেশকরা ইউনিলিভারের বিরুদ্ধে এসব সালিশি বিবিধ মামলা দায়ের করেন।
২৮ জানুয়ারি, মামলাগুলোর মেরিটের ওপর শুনানি গ্রহণ করেন আদালত। শুনানিকালে ইউনিলিভার বাংলাদেশ তাদের অবস্থান স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করে এবং প্রমাণ করে যে পরিবেশক নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ আইনানুগভাবে এবং পরিবেশক চুক্তির শর্তানুযায়ী গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি আদালতকে জানানো হয়, পরিবেশকরা বিভিন্ন আদালতে মামলা দায়েরের সময় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি গোপন করেছেন এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করেছেন।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত ২৯ জানুয়ারি আদেশ প্রদানের দিন ধার্য করেন এবং নির্ধারিত দিনে পরিবেশকদের আবেদন খারিজ করে ইউনিলিভার বাংলাদেশের পক্ষে রায় দেন। এই রায়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হলো, ইউনিলিভার বাংলাদেশ আইনসম্মতভাবে পরিবেশক নিয়োগ বাতিল করেছে এবং নতুনভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত পরিবেশকের মাধ্যমে স্বাভাবিক ও নির্বিঘ্নভাবে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।
মামলায় ইউনিলিভার বাংলাদেশের পক্ষে আদালতে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ আশিম ও ব্যারিস্টার তানিম হোসেন শাওন। অপরদিকে পরিবেশকদের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক (ফারুকী) এবং ব্যারিস্টার আবির আব্বাস।








