গোল পোস্টের অতন্দ্র প্রহরী হয়ে মোহাম্মেদ সালাহ, সাদিও মানে রবের্তো ফিরমিনোদের একের পর এক আক্রমণ ঠেকিয়েছেন। রিয়াল মাদ্রিদের রক্ষা কবজ হয়ে আলরেডদের বিপক্ষে দুর্ভেদ্য দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন পুরো ম্যাচে। ম্যাচ সেরার পুরস্কার নিয়ে তাই খুব একটা ভাবতে হয়নি ম্যাচ অফিসিয়ালদের। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালের ইতিহাসে তৃতীয় ফুটবলার হিসেবে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতে নিয়েছেন থিবো কোর্তোয়া।
এর আগে ২০০১ সালে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল সেরার পুরস্কার জিতেছিলেন অলিভার কান। ২০০৮ সালে এডউইন ভ্যান ডের সারের হাতে ওঠেছিল ম্যাচ সেরার পুরস্কার। এবার তৃতীয় ফুটবলার হিসেবে তাতে ভাগ বসালেন কোর্তোয়া।
২০১৮ ফাইনালের প্রতিশোধ নিতে প্যারিসে রিয়াল দুর্গে কম আক্রমণ চালায়নি লিভারপুল। ম্যাচে সালাহ মানেদের হতাশ করার পাশাপাশি নয়টি কঠিন সেভ করে রেকর্ড গড়েছেন ৩০ বর্ষী বেলজিয়ান তারকা।
ম্যাচে লিভারপুলের হার মূলত ঐ কোর্তোয়ার কাছেই। ৬ ফিট ৭ ইঞ্চি উচ্চতার বিশাল দেহী ফুটবলারের দুর্ভেদ্য বাধা টপকাতে পারেনি ক্লপের শিষ্যরা। চলতি মৌসুমে ১৪ ম্যাচে ৬১ সেভ করেছেন কোর্তোয়া। বিপরীতে লিভারপুল গোলরক্ষক অ্যালিসনের সংখ্যা মাত্র ১৫। এতেই ব্যবধান স্পষ্ট। ক্যারিয়ারে বহু সমালোচনার শিকার হলেও ফাইনালে তার জবাব দিয়েছেন কোর্তোয়া।
‘আমার সমস্ত কঠোর পরিশ্রমের বিনিময়ে হলেও ক্যারিয়ারে একটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল জিততে চেয়েছিলাম। নামের সম্মান রাখতে চেয়েছিলাম। কারণ ইংল্যান্ডে আমার যথেষ্ট সম্মান রয়েছে। একটি দুর্দান্ত মৌসুমের পরও আমি প্রচুর সমালোচনা দেখেছি। তারা আমাকে যথেষ্ট ভালো নয় বলে মনে করেছে। তবে দলের পারফরম্যান্সের জন্য আমি সত্যিই গর্বিত। দলের জন্য যেখানে প্রয়োজন ছিল, সেখানেই ছিলাম।’
ম্যাচে এমন পারফরম্যান্সের পর তাকে নিয়ে হইচই পড়েছে যোগাযোগ মাধ্যমে। সাবেক স্প্যানিশ গোলরক্ষক ইকার ক্যাসিয়াসতো মনেই করতে পারছেন না শেষ কবে গোলরক্ষকের এমন পারফরম্যান্স দেখেছেন।
‘চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে এতটা সময় ধরে একজন গোলরক্ষক ম্যাচের নির্ধারক ছিলেন শেষ কবে, মনে করতে পারছি না।’








