তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করার পর ভারতের ১৮তম লোকসভার প্রথম অধিবেশন শুরু করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে অধিবেশনের শুরুতেই প্রোটেম স্পিকার নিয়ে ক্ষমতাসীন এবং বিরোধীদলগুলোর মধ্যে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, আজ (২৪ জুন) সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপি এর সংসদ সদস্যরা সংসদে পৌঁছান এবং অধিবেশন শুরুর আহ্বান জানান। লোকসভার এই বিশেষ অধিবেশনে ভারতের নির্বাচনে জয়ী নেতারা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন।
অধিবেশনের শুরুতেই প্রোটেম স্পিকার নিয়ে সংঘাত শুরু হয়েছে। আজ বিজেপি সাংসদ ভর্তৃহরি মহাতবকে প্রোটেম স্পিকার হিসাবে শপথবাক্য পাঠ করান ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। প্রোটেম স্পিকারের কাজ হলো, নতুন স্পিকার নির্বাচিত হওয়া পর্যন্ত লোকসভার কাজ সামলানো ও সাংসদদের শপথবাক্য পাঠ করানো। আজ প্রথম দিনেি ২৮০ জন সাংসদের শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে।
রীতি হলো, লোকসভার সবচেয়ে প্রবীণ সাংসদ প্রোটেম স্পিকার হন। কে সবচেয়ে প্রবীণ তা ঠিক হয়, তিনি কতবার লোকসভায় জিতে এসেছেন তার ওপর। মহাতব লোকসভায় সাতবার জিতে আসা সাংসদ। কংগ্রেসের বক্তব্য, তাদের সাংসদ সুরেশ আটবার লোকসভায় জিতে এসেছেন। তাই তাকে প্রোটেম স্পিকার করা উচিত ছিল। প্রতিবাদে তারা ঠিক করেছে, সরকার ও প্রোটেম স্পিকার যে লোকসভা পরিচালনার যে প্যানেল তৈরি করেছে, তাতে কংগ্রেসের কেউ থাকবেন না।

হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, লোকসভার প্রথম অধিবেশনের দিনই সংবিধান বাঁচানোর দাবি তুলে সোনিয়া গান্ধী, মল্লিকার্জুন খড়্গে, সমাজবাদী পার্টির ডিম্পল যাদব, তৃণমূলের সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌগত রায়, এনসিপি (এসসিপি)-র সুপ্রিয়া সুলেসহ বিরোধী সাংসদরা হাতে সংবিধান নিয়ে বিক্ষোভ দেখান।
এই বিষয়ে মোদি বলেছেন, মানুষ সংসদে গোলমাল চায় না। ভালো বিরোধী চায়। দায়িত্বশীল বিরোধী চায়। আশা করব, বিরোধীরা এই আশা পূর্ণ করবে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পরে একে একে রাজনাথ সিং, নিতিন গড়করি, অমিত শাহ সহ মন্ত্রীদের শপথগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এদিকে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান শপথবাক্য পাঠ করতে উঠলে বিরোধীরা একযোগে ‘নিট’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। এরই মাঝে শপথবাক্য পাঠ করেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।
নরেন্দ্র মোদি ১৮তম লোকসভার জন্য সংসদ নেতা হিসাবে শপথ নিয়েছেন। এরপর প্রোটেম স্পিকারকে সাহায্য করার জন্য রাষ্ট্রপতির সুপারিশে সদস্যদের শপথ পাঠ করানো হবে। চেয়ারপার্সনদের শপথের পর প্রোটেম স্পিকার মন্ত্রীদের শপথ পাঠ করাবেন। এরপর আগামী দুইদিন ধরে সংসদে কেবল প্রতিটি রাজ্য থেকে নির্বাচিত সাংসদদের শপথবাক্য পাঠ করানো হবে।








