দেশের সর্বাধুনিক সিনে থিয়েটার স্টার সিনেপ্লেক্সের রাজশাহী শাখায় ভাঙচুর চালানো হয়েছে। ৫ আগস্ট রাতে দুষ্কৃতকারীরা পদ্মার পাড়ে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাইকেট পার্কের অবস্থিত একটি স্ক্রিনে ১৭২ আসনের সিনেপ্লেক্সের এই শাখাটিতে ব্যাপক ধ্বংসজজ্ঞ চালায়।
এতে করে উন্নত ডেকোরেশন, সিট, গ্লাসে আবৃত টিকেট কাউন্টার সবকিছু ভেঙে চুরমার করে নষ্ট করে দেয়া হয়েছে। ফলে রাজশাহী নগরীর একটি মাত্র সিনেমা হলটিও বন্দ হয়ে গেল। এই ঘটনায় সিনেমা সংশ্লিষ্টরা উদ্বেগ প্রকাশ করে এসব ভাঙচুর বন্দে আহ্বান জানিয়েছেন।
চ্যানেল আই অনলাইনকে সিনেপ্লেক্সের জৈষ্ঠ্য বিপণন কর্মকর্তা মেজবাহ আহমেদ বলেন, দুষ্কৃতকারীরা ভাঙচুর করেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি। রাজনৈতিক অস্থিরতায় কিছুদিন সিনেপ্লেক্সের সব শাখা বন্ধ ছিল। তাই কাউন্টার বন্ধ থাকায় নগদ অর্থ নিতে পারেনি।
ঢাকার বসুন্ধরা সিটি, সীমান্ত সম্ভার, মিরপুর সনি, সামরিক জাদুঘরের পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও রাজশাহীর শাখাগুলোতে সিনেমা প্রদর্শন করে আসছিল স্টার সিনেপ্লেক্স। রুচিশীল ও মধ্যবিত্ত দর্শকদের সিনেমা দেখার নির্ভরযোগ্য স্থানে পরিণত হয়েছিলেন সিনেপ্লেক্সে।
সিনেপ্লেক্স ভাঙচুরের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। তারা বলছেন, রাজনৈতিক যে কোনো দলের প্রতি বা ব্যক্তিগত আক্রোশ থাকতে পারে তাই বলে সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি তথা সিনেমা হলের প্রতি আক্রমণ কেন? অনেকেই লিখছেন, সিনেপ্লেক্স ভাঙচুরের ঘটনা সাধারণ ছাত্ররা করেনি। যারা করছেন তারা এদেশের ভালো চায় না। এসব দুষ্কৃতকারী এখনই রুখে দেখায় সময় এসেছে।
৫ আগস্ট রাতে সিরাজগঞ্জের রুটস সিনেক্লাবেও ব্যাপক ভাঙচুর হয়েছে বলে জানিয়েছেন এর চেয়ারম্যান সামিনা ইসলাম। তিনি বলেন, আমি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এটাই কি আমার দোষ? কারা কি করেছে সেটা নিয়ে এখন আর কিছু বলতে চাচ্ছি না। তবে সিনেমা হল এবং আমার বাড়িঘর দিয়ে কোটি টাকার উপর ক্ষতি করা হয়। আমি এখন পুরোপুরি নিঃস্ব। জানিনা আদৌ এই ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারবো কিনা!
নির্মাতা অনন্য মামুনসহ অনেকেই মনে করছেন, সিনেপ্লেক্স আছে বলে চলচ্চিত্র দেখার জন্য নতুন দর্শক আসতে শুরু করেছে। আমরা বড় বাজেটের চলচ্চিত্র বানানোর স্বপ্ন দেখি। রাজশাহী হাইটেক পার্কে লুটপাট হয়েছে, সিনেপ্লেক্স ভেঙ্গে চুরমার! সিরাজগঞ্জের রুটস্ সিনে ক্লাবও লুটপাট করা হয়েছে। সবাইকে অনুরোধ করবো চলচ্চিত্র বাঁচাতে হলে সিনেপ্লেক্স বাঁচাতে হবে।







