পাহাড়ে কৃষি উন্নয়ন সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন , কৃষি উন্নয়নের ক্ষেত্রে পার্বত্য চট্টগ্রাম অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি অঞ্চল। এটাকে ঠিকমত কাজে লাগানো গেলে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সারা বাংলাদেশে কৃষিক্ষেত্রে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।
বৃহস্পতিবার সকালে রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার সাপছড়ি ও কুতুকছড়ি ইউনিয়নে মাঠ পর্যায়ে সূর্যমুখী সরকারি প্রণোদনা কার্যক্রম, কমিউনিটি বেইজড ভার্মি কম্পোষ্ট, ড্রাগন বাগান, তেলজাতীয় ফসলের প্রদর্শনী কার্যক্রম পরিদর্শনকালে ড. আব্দুর রাজ্জাক সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, পাহাড়ে উৎপাদিত আনারস, আম, ড্রাগন, মাল্টা, কাজুবাদাম থেকে শুরু করে অনেক অর্থকরী ফসলের চাষ সমতলের চেয়েও অনেক সম্ভাবনাময় এবং পাহাড়ের উৎপাদিত ফল-ফলাদির আকারও অনেক বড় এবং সুস্বাদু। এ সম্ভাবনাকে কিভাবে কাজে লাগানো যায় এবং পাহাড়ের পরিত্যক্ত জমিগুলোকে কৃষি উৎপাদনের আওতায় আনতে কী কী উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে সেজন্য পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করছি।
ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে উৎপাদিত কৃষি পণ্য সংরক্ষণের জন্য কিছু প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে হিমাগার স্থাপনের উদ্যোগ নিলেও আরো অত্যাধুনিক মানের হিমাগার যাতে খুব শীঘ্রই এখানে স্থাপন করা হয় তার কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কৃষিমন্ত্রী সূর্যমুখী বাগান, ড্রাগন বাগানসহ মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন বাগান পরিদর্শনকালে স্থানীয় কৃষকদের বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৃষি ও কৃষক বান্ধব বলে তিনি কৃষি উন্নয়ন ও উৎপাদনে সবচেয়ে বেশী গুরুত্ব দিচ্ছেন। এজন্য সরকারের পক্ষ থেকে কৃষি প্রণোদনা থেকে শুরু করে বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এ সময় মন্ত্রী কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা শুনেন এবং এসব সমস্যা সমাধানে কৃষি বিভাগসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা প্রদান করেন।
এসময় মাঠ পরিদর্শনকালে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি, খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি দীপংকর তালুকদার এমপি, মহিলা সংরক্ষিত আসনের এমপি বাসন্তী চাকমা, কৃষি সচিব ওয়াহিদা আক্তার, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাদল চন্দ্র বিশ্বাস, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অংসুই প্রু চৌধুরী, রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, জেলা, পুলিশ সুপার মীর আবু তৌহিদ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাঙ্গামাটি অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক তপন কুমার পাল, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমা বিনতে আমিনসহ সদর উপজেলাধীন বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগণ উপস্থিত ছিলেন।
পরে মন্ত্রী নানিয়ারচর উপজেলার হাজাছড়া, তৈ চাকমা ব্লক, দ্বিচান পাড়া এলাকায় কাজুবাদাম ও কফি গবেষণা উন্নয়ন ও সম্প্রসারন প্রকল্পের আওতায় কাজুবাদাম ও কফি প্রদর্শনী, অনাবাদি পতিত জমি ও বসতবাড়ির আঙ্গিনায় পারিবারিক পুষ্টি বাগান প্রদর্শনী পরিদর্শন এবং নানিয়ারচর উপজেলার স্থানীয় কৃষকদের সাথে মতবিনিময় সভায় যোগ দেন।
এছাড়া মন্ত্রী বিকেলে কৃষি আবহাওয়া রেডিও, রাঙ্গামাটি কেন্দ্র ও ডিজিটাল ডিসপ্লেবোর্ডের উদ্বোধনসহ রাঙ্গামাটি শহরের শাহ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে কৃষক ও সুধীজনের সাথে মত বিনিময় করেন।







